• এসএসকেএম থেকে ভবানীপুর, কলকাতা জুড়ে বন্ধ মমতার ৫ টাকার 'মা ক্যান্টিন'
    আজ তক | ০৯ মে ২০২৬
  • কোভিড অতিমারির সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চালু হয়েছিল রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’। মাত্র ৫ টাকায় ভাত, ডাল, ডিম ও সবজি দিয়ে পেটভরা খাবারের ব্যবস্থা বহু গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিল ভরসার জায়গা। কিন্তু সরকার বদলের পর এবার সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ইতিমধ্যেই কলকাতার অন্তত ৫০টি মা ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গেছে বলে সূত্রের খবর।

    রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে চাল, ডাল, ডিম ও অন্যান্য কাঁচামাল সরবরাহ করা হলেও, নির্দিষ্ট কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সেই উপকরণ দিয়ে রান্না করে শহরের ১৩০টিরও বেশি ক্যান্টিনে খাবার পৌঁছে দিত। গোটা ব্যবস্থার সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল কলকাতা পুরসভা।

    পুরসভার এক অফিসার জানিয়েছেন, নতুন বিজেপি সরকার পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনপ্রিয় প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বা বিল অনুমোদন করবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই আপাতত অনেক জায়গায় পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

    খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক কর্তা জানান, তাঁরা প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজার মানুষের জন্য রান্না করতেন। কিন্তু গত কয়েকদিনে নতুন করে চাল, ডাল বা ডিমের কোনও সরবরাহ আসেনি। ফলে শুক্রবার থেকেই রান্নার কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।

    ইতিমধ্যেই এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে থাকা দুটি মা ক্যান্টিন, কালীঘাট সেতুর কাছে একটি ক্যান্টিন, ভবানীপুরের পূর্ণ সিনেমা হলের সামনে এবং প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের লর্ডস মোড়ের কাছের ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গেছে।

    জানা যাচ্ছে, যারা কাঁচামাল দিত, তারা জানিয়েছে যে সরকারের তরফে এখনও নতুন কোনও নির্দেশ আসেনি। সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে পরিস্থিতি পরিষ্কার হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। 

    আগামী শনিবার শুভেন্দু অধিকারী নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। তার আগেই এই জনপ্রিয় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহরের ও অভাবী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্প চালু হয়েছিল। গত পাঁচ বছরে এই ক্যান্টিনগুলির সামনে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। বহু শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, পথবাসী ও দিনমজুর অল্প খরচে খাবারের জন্য এই প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন।

    সাধারণত দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত ক্যান্টিন খোলা থাকত। তবে চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে, অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই খাবার শেষ হয়ে যেত।

    প্রথমে সাতটি পুরনিগম ও ৩৪টি পুরসভা এলাকায় এই প্রকল্প চালু হলেও পরে তা রাজ্যের আরও বহু এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন নতুন সরকারের আমলে এই প্রকল্প চালু থাকবে কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

     
  • Link to this news (আজ তক)