• লোকসভায় আর কংগ্রেসের সঙ্গে বসতে নারাজ ডিএমকে, স্পিকারকে চিঠি কানিমোজি
    বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
  • সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; মোদি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট ছেড়ে দিল তামিলনাড়ুর দল ডিএমকে (দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগম)। রাজ্যে নতুন সরকার গড়তে নব্য দল টিভিকে (তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম)-কে সমর্থন দিচ্ছে কংগ্রেস। অথচ নির্বাচনে তো বটেই, এতদিন তামিলনাড়ুতে ডিএমকের সঙ্গেই থেকেছে কংগ্রেস। সংসদে একজোট হয়ে বিজেপি বিরোধী অবস্থানও নিয়েছে। লোকসভায় ডিএমকে সাংসদদের বসার আসনও কংগ্রেসের সঙ্গেই। তাও তামিলনাড়ুতে সরকার গড়তে ডিএমকের সঙ্গ ছেড়ে চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয়ের সঙ্গে হাত মেলানোয় ক্ষিপ্ত এম কে স্ট্যালিন। আর সেই কারণে লোকসভায় কংগ্রেসের পাশে বসতে চায় না ডিএমকে। সেই মতো লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন কানিমোজি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের জোট ভেঙে গিয়েছে। তাই ডিএমকে সংসদীয় দল কংগ্রেসের পাশে বসতে চায় না। অনুগ্রহ করে লোকসভায় আমাদের সাংসদদের অন্যত্র বসার ব্যবস্থা করে দিন।

    এই চিঠির বিষয়ে বিজেপি অত্যন্ত খুশি বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কারণ, ইন্ডিয়া জোট ভেঙে যাওয়ার ফলে আদতে সংসদে মোদি-শাহের শক্তিই বৃদ্ধি পাবে। কোনো বিলে কংগ্রেস বিরোধিতা করলে ডিএমকে সমর্থনও দিতে পারে। পরবর্তীতে ডিএমকে-কে এনডিএতে শামিল করে কানিমোঝিকে কেন্দ্রে মন্ত্রীও করে দিতে পারেন মোদি। ফলে সরকার পক্ষের শক্তি পরোক্ষে বাড়ছে। যদিও স্পিকারকে চিঠি দিলেও এখনই বসার আসন বদলে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেননি ওম বিড়লা। সংসদ সচিবালয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ডিএমকে এভাবে কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়ায় আদতে ইন্ডিয়া জোটই দুর্বল হয়ে পড়বে, মত রাজনৈতিক মহলের। 

    লোকসভায় ডিএমকে’র এখন রয়েছে ২২ সাংসদ। তামিলনাড়ুতে ভোট পর্বের মধ্যেই গত ১৭ এপ্রিল মোদি সরকারের আনা সংবিধান সংশোধন বিলের তীব্র বিরোধিতায় বিপক্ষে ভোট দিতে রাজ্যে প্রচার ছেড়ে লোকসভায় হাজির হয়েছিলেন ডিএমকে’র ২২ জনই। যেখানে কংগ্রেসের ৯৮ জনের মধ্যে ছিলেন ৯৬। তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২১। সমাজবাদী পার্টির ৩৭ জনের মধ্যে সবাই। বিরোধী জোট একাট্টা থেকে ২৩০ ভোটের শক্তিতে হারিয়েছিল মোদি সরকারকে। বিল পাশ করাতে পারেননি মোদি। ক্ষমতায় আসার পর থেকে যা প্রথমবার বিল পাশের ব্যর্থতার ইতিহাস লোকসভায় লেখা হয়েছিল। কিন্তু সেই বিরোধী জোটেই ভাঙন। আগেই ইন্ডিয়া জোট ছেড়েছিল আম আদমি পার্টি। এবার ডিএমকে। কংগ্রেস অবশ্য একদিকে যেমন তৃণমূল এবং সমাজবাদী পার্টিকে সঙ্গে নি঩য়েই চলতে চায়। ডিএমকে’র সঙ্গেও তাদের শত্রুতা নেই বলেই মত। এআইসিসির যুক্তি, মাত্র পাঁচজন বিধায়ক নিয়ে তামিলনাড়ুতে টিভিকে’কে সমর্থন দেওয়ার মূল লক্ষ্যই হল বিজেপি এবং তাদের সহযোগী এআইএডিএমকে’কে রোখা। টিভিকে পেয়েছে ১০৮। সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১১৮। বিজেপির  হয়েছে একজন বিধায়ক। এআইএডিএমকে’র ৪৭। তাই টিভিকে’কে বিজেপির গ্রাস থেকে রুখতেই কংগ্রেসের এই সমর্থন দেওয়ার কৌশলী সিদ্ধান্ত। এতে আর যাইহোক, অন্তত, বিজেপির ‘বি’ টিমের হাত থেকে আটকানো গেল টিভিকে’কে। 
  • Link to this news (বর্তমান)