নয়াদিল্লি: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। আজ ২৫শে বৈশাখ ব্রিগেড ময়দানে নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বাংলার নতুন সরকার গঠন ও বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বিখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত ‘হে নূতন, দেখা দিক আরবার, জন্মেরও প্রথম শুভক্ষণ’-র প্রসঙ্গ টেনে এই জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য, ‘এক বিশেষ আনন্দঘন মুহূর্ত। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীর কয়েকদিন আগেই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। তবে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ছিল না। এটি আসলে বঙ্গভূমির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা।’
বাংলার ইতিহাস ও সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নবজাগরণের আগেও বাংলা ছিল এক পুণ্যভূমি। পঞ্চদশ শতাব্দীতে নবদ্বীপে গঙ্গার তীরে জন্মেছিলেন নিমাই। পরবর্তীতে গোটা বিশ্বে চৈতন্য মহাপ্রভু নামে পরিচিতি পান তিনি। তাঁর কীর্তন শুধু গান ছিল না। ভক্তির মধ্য দিয়ে তিনি সমাজ সংস্কারের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এর দুই শতাব্দীর পর বাউল ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে জাত, ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল। নেপথ্যে ছিলেন লালন ফকির। পরের দিকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লড়াইয়ের সাহস জুগিয়েছিল। যা আজও ভারতবাসীর হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয়। বাংলাই ভারতকে প্রথম মহিলা চিকিৎসক উপহার দিয়েছে— কাদম্বিনী গাঙ্গুলি। বাংলার গর্ভেই জন্মগ্রহণ করেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। দেশের ঐক্যের স্বার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তিনি।’
স্বামী বিবেকানন্দকেও স্মরণ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, এটাই পশ্চিমবঙ্গ। এভাবেই বাংলাকে দেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার বাংলার সেই সুপ্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে মাথায় রেখে ও এই বিপুল জনাদেশকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাবে নবনির্বাচিত সরকার।