সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: তাঁর অসংখ্য সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই টানটান উত্তেজনা আর সাসপেন্স। অবশেষে সব বাধা অতিক্রম করে তামিলনাড়ুর শীর্ষপদে বসতে চলেছেন সুপারস্টার বিজয়? এম জি রামচন্দ্রণ এবং জয়ললিতার পর ফের তামিল রাজনীতির আকাশে প্রধান চরিত্র হিসাবে দেখা যাবে আরও এক মেগাস্টারকে? যদিও তাঁর শপথ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে খবর। রাজ্যপাল এখনও তাঁকে শপথ গ্রহণের জন্য ডাকেননি বলে সূত্রের খবর।
তামিলনাড়ুতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১১৮ আসন। বিজয়ের দল টিভিকের আসন ১০৮। তাঁকে কংগ্রেস ছাড়াও সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে সমর্থন করছে বলে দাবি বিজয়ের। বিজয় দুই আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। একটি আসন তাঁকে ১৪ দিনের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে।
দীর্ঘ টানাপোড়েন, উত্তেজনা, সাসপেন্সের পর দুই বাম দল ও ভিসিকের সমর্থন নিশ্চিত করে টিভিকে। এরপরই শুক্রবার সন্ধ্যায় তামিল সিনেমার সুপারস্টার বিজয় পুনরায় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। জানান, তাঁর সঙ্গে ১১৮ জনের বেশি সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। অতএব টিভিকে জোটকেই ডাকা হোক সরকার গঠনের জন্য। আজ শনিবার শপ্থ গ্রহণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। কিন্তু তৎক্ষণাৎ কোনও নিশ্চয়তা দেননি রাজ্যপাল। অবশেষে এক ঘন্টা সাসপেন্স বজায় রাখার পর লোকভবন সূত্রে জানা যায়, আজ সকালেই বিজয়ের শপথগ্রহণ। কিন্তু রাতেই ফের জট। জানা যাচ্ছে, ভিসিকে এখনও সিদ্ধান্ত নিয়ে দোলাচলে। ফলে বিজয়ের কাছে ১১৬ জনের সমর্থন। আর তাই শপথ অনিশ্চিত। কারণ, বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যপাল এখনও সন্তুষ্ট নন বলে সূত্রের খবর। ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থন নিয়ে চিঠির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
এককভাবে বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও কেন বিজয়কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞরা তুমুল সমালোচনা করে রাজ্যপালের। এদিকে রাজ্যপালের বিলম্ব দেখে তৎপর হয়ে যায় ডিএমকে এবং এআইডিএমকে দুই দল। এই চিরশত্রু দুই দ্রাবিড় দল নিজেদের বিরোধ ভুলে সরকার গড়ার চেষ্টা করছে বলে জল্পনা ছড়ায়। ডিএমকে জানায়, বিজেপি যদি না থাকে তাহলে তারা এআইএডিএমকের হাত ধরতে রাজি। এরইমধ্যে বিজয় বিকেলের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থনের দাবি করে চলে যান রাজ্যপালের কাছে। যদিও প্রশ্ন উঠছে, এরকম সামান্য গরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় কতদিন সরকার চালাতে সমর্থ হবেন? শপথের পর বিধানসভায় হবে আস্থা ভোট। সেখানে কী চমক অপেক্ষা করছে? সুতরাং নাটকীয়তার অবসান এখনও হয়নি। বিজয় সফল হলে ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে ছাড়া নতুন কোনও দলের সরকার গঠিত হতে চলেছে তামিলনাড়ুতে।
উল্লেখ্য, ডিএমকে, এআইএডিএমকে এবং বিজয়ের সিংহাসন দখলে টানটান জোট সমীকরণের লড়াই হলেও বস্তুত বিগত ৪৮ ঘন্টা ধরে মাত্র ৫ জন বিধায়ক থাকা কংগ্রেস এবং ১ জন বিধায়ক থাকা বিজেপির মধ্যেও যেন চলছে স্নায়ুর গোপন লড়াই। কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলি চাইছে যেভাবেই হোক এআইএডিএমকে ও বিজেপি জোট যেন বিজয়কে সমর্থন দিয়ে সরকারে চলে আসতে না পারে। এক্ষেত্রে কংগ্রেস সফল হলে দক্ষিণ ভারতের পাঁচ রাজ্যের মধ্যে চার রাজ্যেই কাগজে কলমে সরকারে তাদের দল থেকে যাচ্ছে।