মাধ্যমিকে দশম পশ্চিম বর্ধমানের নিম্নবিত্ত বাড়ির ছেলে অভিষেক
বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় ঠাই পশ্চিম বর্ধমানের পড়ুয়ার। কয়েক বছরের খরা কাটিয়ে জেলায় এই সাফল্য এনে দিয়েছে অভিষেক দাস। আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুলের পড়ুয়া অভিষেক মাধ্যমিকে দশম স্থান অধিকার করেছে। ৬৮৮ নম্বর পাওয়া পড়ুয়া বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায়। আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করেই ছেলেকে মানুষ করেছেন বাবা অসিত দাস ও মা ঝুমা দাস। অভিষেকের সাফল্যে খুশি এলাকাবাসী থেকে স্কুলের শিক্ষকরা।
অভিষেকদের বাড়ি আসানসোলের ময়দাকল মোড়ের শহিদ সুকুমার পল্লিতে। অনুন্নত এলাকা, সংকীর্ণ গলিপথ বেয়ে পৌঁছাতে হয় তাঁর বাড়িতে। এই এলাকা থেকে তেমন কোনো কৃতী পড়ুয়া বের হয়নি। কিন্তু অভিষেকের অধ্যাবসায় দেখে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। মাধ্যমিকে দশম স্থান অধিকার করা অভিষেক বাংলা, অঙ্ক ও জীবন বিজ্ঞানে একশোয় একশো পেয়েছে। ভৌতবিজ্ঞানে ৯৯, ভূগোলে ৯৯, ইতিহাসে ৯৮ ও ইংরেজিতে ৯২ নম্বর পেয়েছে। তবে তার পছন্দের বিষয় জীবন বিজ্ঞান। তাই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। স্বপ্নপূরণ করতে দিনরাত পরিশ্রম করেছে। ময়দাকল মোড় থেকে আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের দূরত্ব অনেকটাই। টোটো, বাস ধরে প্রতিদিন সে যাতায়াত করত। বাড়িতে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ নেই। একান্নবর্তী পরিবার। বাবা অসিত দাস বিভিন্ন সামগ্রীর ডিস্ট্রিবিউটারের অধিনে কাজ করেন। গোডাউন থেকে বিভিন্ন দোকানে সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কাজ। দিনরাত তিনি পরিশ্রম করছেন ছেলের স্বপ্নপূরণের জন্য। অসিতবাবু বলেন, আর্থিক সমস্যা রয়েছে, তবু ছেলে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেলে নিজেদের সবকিছু দিয়েও ওর স্বপ্নপূরণের চেষ্টা করব। মা ঝুমা দাস স্বামীর উপর আর্থিক বোঝা কমাতে বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করেন। পরিবারের লড়াইকে কাছ থেকে দেখেছে অভিষেক। যা তাকে আরও লক্ষ্য পৌঁছে দিতে উদ্দীপ্ত করেছে। অভিষেক এই সাফল্যে জন্য বাবা ও মায়ের কষ্টকেই সবচেয়ে বড় প্রেরণা বলে জানিয়েছে। সাফল্যের চাবিকাঠি হিসাবে তুলে ধরেছে তার স্কুল আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুলকে (এইচএস)।
আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুল যেন মরুভূমিতে মরুদ্যান। খনি ও শিল্পাঞ্চলের আধিক্য থাকা এই জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে না। তার কারণ ধনী, উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী পড়ুয়ারা আসানসোল, দুর্গাপুরের নামজাদা বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। অন্যদিকে যেসব নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা সরকারি স্কুলে পড়ে, তাদের বাড়িতে পড়ার পরিবেশ নেই। এই পরিস্থিতিতেও জেলার সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুলে ধরেছে আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুল। দশকের পর দশক ধরে ভালো রেজাল্ট করে আসছে এখানকার পড়ুয়ারা। অভিষেকও সেই স্কুলেরই ছাত্র। অভিষেক ছাড়াও এই স্কুলের দ্বিতীয় অম্লান মাজির প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৬। তৃতীয় হয়েছে দু’জন। তারা হল সম্রাট চক্রবর্তী ও অনিরুদ্ধ ভূষণ। দুজনেই পেয়েছে ৬৮৪ নম্বর। স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বামী ভারুপানন্দ বলেন, এবার মাধ্যমিকে ৯৩ জন পরীক্ষা দিয়েছে, প্রত্যেকেই প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে। ৮৭ জন ৭৫ শতাংশর বেশি নম্বর পেয়েছে। ৪৭ জন ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। ২০২২ সালেও এই স্কুলের পড়ুয়ারা মেধা তালিকায় ঠাঁই পেয়েছিল।