• হাসনে পুলিশ আধিকারিকের অত্যাচারে বিজেপি কর্মীর মায়ের মৃত্যু! শোরগোল
    বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: হাসন বিধানসভার মাড়গ্রাম থানার কৌড়া গ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিজেপি কর্মীর মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাক্তন ওসি জাহিদুল ইসলাম সহ চার পুলিশ কর্মীর নামে অভিযোগ দায়ের করল পরিবার। যথাযথ তদন্তের দাবিতে অভিযোগের প্রতিলিপি জেলার পুলিশ সুপার, জেলাশাসক ও নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছেন মৃতার ছেলে। নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই ধরনের অভিযোগ প্রশাসনিক কর্তাদের চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে। 

    হাসন বিধানসভায় পরাজয় হয়েছে বিজেপির। কিন্তু ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্য দখলের আনন্দে মঙ্গলবার রাতে কৌড়া গ্রামে বক্স বাজিয়ে বিজয় মিছিল বের করেন বিজেপির কর্মীরা। পুলিশের দাবি, মিছিল থেকে  উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়। যার জেরে দুই পক্ষের মারামারি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিজেপির অভিযোগ, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার রেশ বজায় রাখতে শান্তিপূর্ণ সেই মিছিল আটকানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে আক্রমণ করা হয়। মারধরের পাশাপাশি মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়। পরে অবশ্য মিছিল বন্ধ রেখে বাড়ি ফিরে আসেন তাঁরা। ঘটনার তদন্তে নেমে কয়েকজনের নাম পায় পুলিশ। সেই মতো ধরপাকড় শুরু করে। অভিযোগ, এই ঘটনার পর ওইদিন রাত ১০টা নাগাদ মাড়গ্রাম থানার প্রাক্তন ওসি জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রামে পুলিশ ঢুকে বিজেপি কর্মীদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এবং বাড়ির দরজায় লাথি মারে। কোথাও প্রাচীর টপকে বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র নষ্ট করে। ওই গ্রামের বিজেপি কর্মী সোমনাথ মণ্ডল অভিযোগে জানিয়েছেন, ওইদিন এক বিভীষিকার পরিবেশ তৈরি করে পুলিশ। আমার বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। যদিও সেই সময় আমি ও বাবা বাড়িতে ছিলাম না। পুলিশ আমার খোঁজে মা বছর আটান্নর কল্পনা মণ্ডলকে বন্দুক উঁচিয়ে হুমকি দেয় এবং থাপ্পর মারে। সেই সঙ্গে গোটা পরিবারকে গুলি করে মেরে ফেলার কথা বলতে থাকে। হুমকি ও মারধরের ফলে মা ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরের দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মা মারা যান। তাঁর দাবি, একজন মায়ের মনে নিজের সন্তানকে হারিয়ে ফেলার যে আতঙ্ক পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল, তারই ফলে এই মৃত্যু। বাড়িতে ঢুকে মহিলাকে মারধর বা বন্দুক উঁচিয়ে হুমকির বিষয়টি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাঁর প্রশ্ন, জাহিদুল ইসলাম মাড়গ্রাম থানায় পোস্টিং না থাকা সত্ত্বেও কার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন? মায়ের মৃত্যুর জন্য জাহিদুল ইসলাম ও আক্রমণকারী ব্যক্তিরা দায়ি। আক্রমণকারী ১৯জনের নাম সহ আরও অনেকে ছিল বলে অভিযোগ উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।  যদিও জাহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু ওই থানায় দীর্ঘদিন ওসি ছিলাম। সেই সুবাদে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার আমাকে সহ আরও কয়েকজন অফিসারকে ওই গ্রামে পাঠিয়েছিল। তবে, ওইদিন অভিযানের পরে গ্রামে গিয়েছিলাম। কিন্তু কারও বাড়ি যাইনি। তারপরের দিন ওই প্রৌঢ়া হার্ট অ্যাটাক করে মারা গিয়েছেন। এখানে আমার কী দোষ, তদন্ত হোক। যদিও জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)