• দুই গৃহবধূর নৃশংস হত্যার সাজা ঘোষণা, দুই যুবকের যাবজ্জীবন
    বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: আইন মন্থর গতিতে চললেও শেষ পর্যন্ত অপরাধীকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়। দুর্গাপুর মহকুমা আদালত দু’টি পৃথক খুনের ঘটনায় দুই দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ যেন তা আরও একবার প্রমাণ করল। দুই বধূকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এদিন তার সাজা ঘোষণা হয়। 

    প্রথম ঘটনাটি ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের। ওড়িশার বাসিন্দা বিপ্লব পারিদা ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। ২০১৯ সালে পারিবারিকভাবে দেখাশোনা করেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল কটকের বাসিন্দা ইপসা প্রিয়দর্শিনীর সঙ্গে। কাঁকসার আড়া এলাকায় একটি বিলাসবহুল আবাসনে সাজানো সংসার ছিল তাঁদের। বিয়ের পর থেকেই সংসারে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ লেগে থাকত। ৫ সেপ্টেম্বর ঘটনার রাতে তীব্র বচসা শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। বচসা চলাকালীন উত্তেজনার বশে ঘরে থাকা পোষা কুকুরের বেল্ট দিয়ে স্ত্রী ইপসার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করে স্বামী বিপ্লব। খুনের পর নিজেই বাইক চালিয়ে সে কাঁকসা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের মেঝে থেকে স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে মামলা চলে। অবশেষে বৃহস্পতিবার, অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন বিচারক। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী শ্রাবণী সরকার বলেন, ২০২১ সাল থেকে মামলা চলছিল। তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এদিন সাজা ঘোষণা হয়। 

    দ্বিতীয় ঘটনাটি যে কোনো ভয়ানক থ্রিলারকেও হার মানাবে। ২০০৫ সালে কোকওভেন থানার রেল কলোনির বাসিন্দা নরসিংহ সেনাপতির সঙ্গে বিয়ে হয় রূপা সেনাপতির। বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে স্ত্রীর উপর শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্ত্রীকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে স্বামী নরসিংহ। তারপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে দেয়। দেহ লোপাট করতে শরীরের বিভিন্ন অংশ ছোটো ছোটো টুকরো করে প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ঘরের কোণে কয়লা রাখার জায়গায় লুকিয়ে রাখে সে। নরসিংহর বাবা-মা বাড়ি ফিরে পুত্রবধূর খোঁজ করলে সত্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে বেপাত্তা হয়ে যায়। পরে আদালতের নির্দেশে পুনরায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে মামলা চলার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক। এই ঘটনায় সরকারপক্ষের আইনজীবী সুবীর রায় বলেন, ২০০৫ সালের মামলা। অভিযুক্ত নিজেই স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। বিচারক অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)