• ‘জাল’ অভিযোগ তুলে টোল প্লাজা বন্ধ করে দিল বিজেপি
    বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ডোমকল: ইসলামপুরে ভৈরব ব্রিজের টোল প্লাজায় তিনদিন ধরে বন্ধ টোল আদায়। টোল প্লাজার গেটে ঝুলছে তালা। যাতায়াতকারী কোনো গাড়ি থেকেই নেওয়া হচ্ছে না টোল। নিরাপত্তাহীনতার কারণেই টোল আদায় করতে পারছেন না বলে দাবি এজেন্সির। এদিকে বিজেপি আবার টোলের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

    ডোমকল মহকুমার লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত ইসলামপুরের ভৈরব ব্রিজ। পূর্তদপ্তর সূত্রের খবর, ২০২৪ এর নভেম্বরের দিকেই ওই সেতুতে টোল আদায়ের জন্য বরাত দেয় পূর্তদপ্তর। বীরভূমের সারাফাত খান নামে একটি এজেন্সি তার বরাত পায়। পূর্তদপ্তরের দাবি, এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই বরাতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখনও পর্যন্ত সেখানে টোল আদায়ের জন্য ওই এজেন্সির মেয়াদ রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এদিকে এর মাঝেই, গত ৫ মে ওই টোল প্লাজায় হানা দেয় রানিনগর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রানা প্রতাপ সিংহ ও তাঁর লোকজন। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চাওয়ার পর, সেই কাগজপত্রকে ‘জাল’ দাবি করে টোল আদায়ের অনুমতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টোল আদায় বন্ধ করে দেন। এই অবস্থায় তারপর থেকে এখনও ঝাঁপ বন্ধ ইসলামপুরের টোল প্লাজার। কর্মীরা না থাকায় বন্ধ রয়েছে টোল সংগ্রহও। এজেন্সির দাবি, ঘটনার পর থেকেই কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে তাঁরা টোল আদায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে একদিকে যেমন তাঁদের লোকসান পোহাতে হচ্ছে, তেমনই সরকারের ঘরে রাজস্বও জমা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

    পিডব্লিউডি বহরমপুর ডিভিশন-২ এর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বুলবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা প্রসাশনের নজরে এনেছি। তাঁদের সমস্ত কাগজপত্রও দেখানো হয়েছে। ওখানে বৈধভাবেই সমস্ত নিয়ম মেনেই টোল নেওয়া হচ্ছে। আবার টোল তোলা শুরু হয়ে যাবে। 

    কিন্তু সমস্ত কিছু বৈধ থাকার পরেও কেন এভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরে বুলবুল সাহেব জানান, এজেন্সিকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। এজেন্সি কেন তা বন্ধ রেখেছে সেই বিষয়টি তাঁরা বলতে পারবে।

    এজেন্সির মালিক সারাফাত খান বলেন, আমাদের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র আছে। তারপরেও দু’দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও তাঁর লোকজন টোলে গিয়ে আমাদের কর্মীদের ভয় দেখিয়েছে। ফলে আমাদের কর্মীরা টোল তুলতে যেতে ভয় পাচ্ছে। এই নিরাপত্তাহীনতার কারণেই টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে এখান থেকে ২৫ হাজারের কাছাকাছি টাকা আদায় হয়। এভাবে টোল আদায় বন্ধ থাকায় আমরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।

    এদিকে রানিনগরের বিজেপি প্রার্থী রানা প্রতাপ সিংহ রায় বলেন, তাঁদের কাগজপত্র জাল। অনুমতিপত্রে মেমো নাম্বারও ছিল না। ওই কাগজের বৈধতা নেই। তাই আমাদের তরফে টোল বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে বালুরঘাট টোলেও তা করা হয়েছে। এরপরেও যদি ওরা এভাবে অবৈধভাবে টোল আদায় করে তাহলে আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।
  • Link to this news (বর্তমান)