আড়ষায় বাস ও ট্রেলারের সংঘর্ষে মৃত্যু শিশুকন্যার, জখম অন্তত ১২
বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বাস ও ট্রেলারের সংঘর্ষে পুরুলিয়ার আড়ষা থানার এলাকায় কোরাং এলাকায় মৃত্যু হল এক শিশুকন্যার। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ১২ জন। তাঁদের মধ্যে একাধিক মহিলা এবং বৃদ্ধও রয়েছেন। জখমদের উদ্ধার করে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অতিরিক্ত গতির জন্যই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। গাড়ি দু’টি আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম দ্বীপান্বিতা দাস(০৭) ওরফে পাখি। তার বাড়ি পুরুলিয়ার টামনা থানার রাঁয়বাধ গ্রামে। এদিন পুরুলিয়া থেকে বলরামপুর হয়ে টাটাগামী একটি বাসে চেপে মামারবাড়ি যাচ্ছিল পাখি। তার মা সুমিত্রা দাস এবং ছোট বোনও সঙ্গে ছিল। কোরাং এলাকায় উল্টোদিক থেকে আসা একটি ট্রেলারের ধাক্কায় গুরুতর জখম হয় পাখি। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। তাঁকে উদ্ধার করে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পাখির মা সুমিত্রাদেবী মেডিকেল কলেজে ভর্তি রয়েছেন।
সুমিত্রাদেবীর আত্মীয় শ্রাবণ দাস বলেন, কয়েকদিনের জন্য ছুটিতে মামারবাড়ি যাচ্ছিল পাখি। ওর মা দুই মেয়েকে নিয়েই বাসে চেপেছিল। তারপরই দুর্ঘটনার খবর পেলাম। ছোট মেয়েটা সুস্থ রয়েছে। অন্যদিকে ওই বাসেই বিয়ে বাড়ি থেকে ঝাড়খণ্ডের টাটায় বাড়ি ফিরছিলেন কাজল মুর্মু, লতিকা হাঁসদা এবং দুখী মাণ্ডি। কাজলদেবী বলেন, বাসটা প্রচণ্ড গতিতে যাচ্ছিল। একেবারে পেছনের সিটে ছোটো ছেলেকে নিয়ে বসেছিলাম। দুর্ঘটনা হয়েছে বুঝতে পেরেই ছেলের মাথাটা কোলের মধ্যে নীচু করে রেখেছিলাম। প্রাণে বেঁচেছি। তবে আমার মাথায় আঘাত লেগেছে। ছেলেটার কিছু হয়নি।
লতিকা হাঁসদা এবং দুখী মাণ্ডি বলেন, বিয়েবাড়ি থেকে ফিরছিলাম। বসার জায়গা পাইনি। ছেলেটাকে নিয়ে গেটের কাছেই দাঁড়িয়েছিলাম। সঙ্গে ব্যাগ ছিল। বাসটা শুরু থেকেই খুব জোরে যাচ্ছিল। তারপর কান্টাডি পেরনোর পর উল্টোদিক থেকে আসা একটি লরি ধাক্কা মারে। বাসের সামনের অংশটা খানিকটা এগিয়ে যাওয়ার পর সাইড থেকে লরিটা ধাক্কা মারে। বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। তবে সামনের দিকে গেটের কাছে থাকায় তেমন কিছু হয়নি। বাসেই থাকা একটি বাচ্চা মেয়ে মারা গিয়েছে। ওর মাথার একটা অংশ নেই। কি করে যে ছেলেটার জীবনটা বাঁচল ভগবান জানেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ এবং স্থানীয়রা এসে বাসযাত্রীদের উদ্ধার করে।