অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি করতে বেরিয়ে আক্রান্ত বিজেপি কর্মী, ধৃত ৩
বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ফর্ম বিতরণ করতে বেরিয়ে এক বিজেপি কর্মী আক্রমণের শিকার হলেন। অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের দিকে। সন্দীপ মালিক নামে ওই বিজেপি কর্মীকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারকেশ্বর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন এনামুল হক, তপন মাঝি ও বেচুরাম জানা।
সন্দীপবাবুর মা অসীমা মালিক জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ মির্জাপুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি করতে বেরিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। বেলা ২টো নাগাদ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে কৃষিজমিতে তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তড়িঘড়ি বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। প্রচুর ঝড়বৃষ্টি চলায় তখন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রাত ২টোর সময় তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আপাতত সেখানেই ভর্তি আছে সন্দীপ। চারজন তৃণমূল নেতা তাঁকে মারধর করেছে বলে তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের পর বাড়িছাড়া হতে হয়েছিল পেশায় দিনমজুর সন্দীপকে।
বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের জয়ের পরেও কর্মীদের এভাবে আক্রান্ত হতে হচ্ছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে চাইছিলেন না। এখানে তৃণমূলের পদাধিকারীরাও আগের মতোই রয়েছেন বলে ভাবছেন।’ এই ঘটনায় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।