পরিকাঠামো উন্নয়নে ৪৮৩৪ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ, পালাবদলের প্রেক্ষাপটে তৎপরতা নবান্নে
বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্য সরকারের শতাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে খরচ হয়ে গিয়েছে বিপুল অর্থ। এই কারণে এখানে পরিকাঠামো উন্নয়ন ধাক্কা খেয়েছে বলেই অভিযোগ ছিল গেরুয়া শিবিরের। নির্বাচনি প্রচারে এসেও বাংলায় পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এই প্রেক্ষাপটেই শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪,৮৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করল নয়াদিল্লি। এনিয়ে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্য অর্থদপ্তরের অধীনে। ইতিমধ্যে, কেন্দ্রের পাঠানো সেই বরাদ্দ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পূর্ত, পঞ্চায়েতসহ পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলিকে। পালাবদলের প্রেক্ষাপটে এই দৃষ্টান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেটস ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট বাবদ এই বরাদ্দের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিককালে একলপ্তে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ নজিরবিহীন বলেই মত প্রশাসনিক মহলের। কিন্তু, কোন কাজে ব্যবহার হয় এই বরাদ্দ? সূত্রের খবর, সেতু, সড়ক, সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট, পুলিশ হাউজিং, পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও গড়ে তুলতে এই বরাদ্দ ব্যবহার করতে পারবে রাজ্য। স্কুলভবন, কমিউনিটি ভবন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমুখী প্রকল্প তৈরিতেও এই বরাদ্দ ব্যবহার করা হয়। ফলে একাধিক দপ্তরের মাধ্যমে খরচ হয় এই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। সূত্রের খবর, কোন দপ্তর কত অর্থমূল্যের কাজ করতে পারবে তা জানতে চাওয়া হবে অর্থদপ্তরের তরফে। দপ্তরগুলির প্রস্তাব খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত করা হবে দপ্তরের ভাগ। রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যবহার করে নয়া প্রকল্পের কাজ যেমন করা যেতে পারে। ঠিক একইভাবে চলতি প্রকল্প সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে এই বরাদ্দের একটি অংশের টাকা।
২০২০-২১ সাল থেকে কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অনুদান হিসাবে সুদহীন পরিশোধযোগ্য দীর্ঘকালীন এই ঋণ প্রদান শুরু করে নয়াদিল্লি। প্রথম বছরে রাজ্যকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৬৩০ কোটি টাকা। তার পরের বছর রাজ্য পেয়েছিল ৯৩৩ কোটি। তবে তার পরের বছরগুলির জন্য ৭,৫২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছাড়াও কিছু প্রকল্পভিত্তিক অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। একাধিক রাজ্যের তুলনায় অনুমোদিত বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য যথেষ্ট এগিয়ে ছিল বলেই জানাচ্ছে প্রশাসনিক মহল। কেন্দ্রের তথ্যেই উঠে এসেছে, গতবছরে পশ্চিমবঙ্গে এই ফান্ড ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ। এক আধিকারিক জানান, ভোট মিটতেই এই বরাদ্দ ব্যবহার করে কী কী কাজ হবে তা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগে ৯৭ শতাংশ বরাদ্দ ব্যবহার হলেও অর্থবর্ষের শেষে গিয়ে কাজের গতি বাড়িয়ে প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে হত। তবে এবার হঠাৎ করেই তৎপরতা বৃদ্ধিটা অনুভব করা যাচ্ছে।