মেধা তালিকায় কলকাতা শূন্য! প্রবল খেদ পড়ুয়া থেকে শিক্ষকমহলেও
বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার কপালে মেধা তালিকা থেকে একজনেরও স্থান হল না! আক্ষেপ রয়েছে শিক্ষক থেকে পড়ুয়াদের মধ্যে। আবার অনেকে কাটাছেঁড়াও করতে বসেছেন। কলকাতা কেন শূন্য হল? পিছনে কী কারণে থাকতে পারে? তবে কলকাতা শহরে পাশের হার বেশ ভালো—৯২.৩১ শতাংশ। এক্ষেত্রেও রাজ্যের মধ্যে প্রথম নয়, তাও ভালো।
কলকাতা শহরের নামী স্কুলগুলো কেন জায়গা করে নিতে পারল না? এই প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষকমহলের একাংশ লটারি ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। আক্ষেপের চিত্র দেখা গেল যাদবপুর বিদ্যাপীঠে। প্রত্যাশা ছিল অনেকটা। কিন্তু হল না। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলছিলেন, ‘আসলে আমরা একটা অসম লড়াই লড়ছি। কাউকেই ছোটো করছি না, কিন্তু লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভরতি হওয়ার ফলে আমরা বিপদে পড়ছি। নতুন সরকারের কাছে চাই, যেন পর্ষদের তরফে স্কুলগুলিতে সঠিক তদারকি করা হয়। তাছাড়া শহরের পড়ুয়ারা নানা রকমের বিচ্যুতির শিকারও হয়ে থাকে। পাশ ফেল প্রথা তুলে দেওয়াও একটা সমস্যা।’
এসবের মাঝে আক্ষেপও থেকে গিয়েছে। ‘একটু নম্বর বাড়তেই পারত!’, এমন কথা শোনা যাচ্ছে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে। পার্থপ্রতিমবাবু বলছিলেন, ‘এবছর প্রথম ইংরেজি মাধ্যমের ব্যাচ পরীক্ষা দিল। আমাদের ধ্রুবজ্যোতি পাইক নামের এক পড়ুয়া ৬৭৮ পেয়েছে, ওকে নিয়ে আমাদের অনেকখানি আশা ছিল। কিন্তু বাংলায় নম্বরটা কমে গিয়েছে। ছেলেটিও আক্ষেপ করছে খুব।’
পাঠভবন স্কুলেও সর্বোচ্চ নম্বর এসেছে ৬৭৯। তাঁর নাম আরুশ ঘোষ। আরুশও আশা করেছিল, তার নম্বর আরও একটু বাড়তে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা হল, তাতেই সন্তুষ্ট সে। পাঠভবনের প্রধান শিক্ষিকা ভারতী চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘আরুশের নম্বর আরো একটু বাড়তে পারত।’ কলকাতার শূন্য হওয়ার প্রসঙ্গে ভারতীদেবীর বক্তব্য, ‘আমার মনে হয়, জেলার স্কুলগুলিতে শিক্ষকরা পড়ুয়দের আরো বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ পান। তাছাড়া শহুরে পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার অত্যধিক বেড়ে গিয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নানা ধরনের বিচ্যুতি।’ আবার শিক্ষকমহলের একাংশের মত, অন্যান্য বোর্ডের শহুরে পড়ুয়ারা তো মেধা তালিকায় আসছে। তাহলে বিচ্যুতিই কি প্রধান কারণ, নাকি নীতিই মূল কারণ? এই প্রশ্নই থেকেই যাচ্ছে।