নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় এবারও উজ্জ্বল স্থান হাওড়ার। এই জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে একাধিক পড়ুয়া ভালো ফল করেছে। মেধাতালিকায় অষ্টম তথা জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সাঁকরাইলের ধূলাগড়ের ছাত্র অনীক দাস। নবম স্থান পেয়েছে হাওড়া শহরের শুভ্রনীল মিস্ত্রি। দশম স্থানে যুগ্মভাবে জায়গা করে পেয়েছে উদয়নারায়ণপুরের সাগ্নিক ভৌমিক ও পাঁচলার সুচিস্মিতা চক্রবর্তী।
অনীক জুজারশা প্রণথ মান্না ইনস্টিটিউশনের ছাত্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০। বাংলায় ও ইংরেজিতে ৯৭, অঙ্কে ও ভূগোলে ৯৯, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৮, জীবনবিজ্ঞান ও ইতিহাসে ১০০ পেয়েছে সে। অনীকের বাবা গৌতম দাসের একটি ছোটো মুদির দোকান আছে। সেই আয়েই চলে ওদের সংসার। অনীক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করে। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলতে ও গান শুনতে ভালোবাসে। ফল বেরনোর পর অনীককে সংবর্ধনা দেন বিজেপির হাওড়া সদরের সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য। হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশনের ছাত্র শুভ্রনীল মিস্ত্রি পেয়েছে ৬৮৯ নম্বর। অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞান ও জীবনবিজ্ঞানে একশোয় একশো। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় ছাত্রটি। ওর বাবা সুব্রতরঞ্জন মিস্ত্রি হাওড়ার একটি স্কুলের বাংলার শিক্ষক। অবসর সময়ে গল্পের বই পড়তে পছন্দ করে শুভ্রনীল। এবার হাওড়ার গ্রামীণ অঞ্চলের দুই কৃতী বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। উদয়নারায়ণপুরের খিলা গোপীমোহন শিক্ষাসদনের ছাত্র সাগ্নিক ভৌমিক এবং দেউলপুর হাইস্কুলের ছাত্রী সুচিস্মিতা চক্রবর্তী। ওদের দু’জনেই ৬৮৮ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছে। সাগ্নিকের ইচ্ছা চিকিৎসক হবে। ও বলেছে, ‘ভালো রেজাল্ট করার আশা ছিল। তবে এতটা ভালো হবে ভাবতে পারিনি।’ নিয়মানুবর্তিতাকে ও সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করে। ছবি আঁকা, আবৃত্তি ও ক্রিকেট পছন্দের বিষয়। সাগ্নিকের বাবা সৌমিত্র ভৌমিক জানান, ছেলেকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সুচিস্মিতার লক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়া। ওর বাবা গৃহশিক্ষক। মা আশাকর্মী। সাধারণ পরিবারের মেয়ে সুচিস্মিতা জানিয়েছে, শুধু পড়াশোনায় ডুবে না থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো বা টিভি দেখে মন ভালো রাখাকেও গুরুত্ব দিয়েছে সে। জেলার স্কুল শিক্ষা পরিদর্শক বিমলকুমার গায়েন বলেন, ‘ভবিষ্যতে হাওড়ায় মাধ্যমিকের ফল আরও ভালো করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।’