নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে তাক লাগাল হুগলি। জেলার শিক্ষার্থী ও জেলার স্কুল থেকে পরীক্ষা দেওয়ার নিরিখে এবার জেলা থেকে আটজন মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ধনেখালির সোহিনী কোলে। স্থানীয় পারাম্বুয়া জগদ্ধাত্রী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী সোহিনী রাজ্যের মেধা তালিকায় ষষ্ঠ স্থান পেয়েছে। হুগলি জেলার ফলাফলের নিরিখে সেই প্রথম স্থানাধিকারী। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২। এছাড়া আরামবাগ মহকুমা থেকে আরো পাঁচজন মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। শ্রীরামপুর মাহেশ রামকৃষ্ণ আশ্রম বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ থেকে কোন্নগরের ছাত্র উপায়ন পাল নবম স্থান পেয়েছে।
জেলার সার্বিক ফলাফলও উল্লেখযোগ্য রকমের ভালো। সার্বিকভাবে ৯০.২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেছে। ছেলেদের পাশের হার ৯৪.৪৩ শতাংশ এবং মেয়েদের পাশের হার ৯০.০৬ শতাংশ। জেলার সমস্ত সফল শিক্ষার্থীদের অভিনন্দনন জানিয়েছেন হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কয়েকবছর ধরে ধারাবাহিকভাবে হুগলি জেলায় ভালো ফল হয়েছে। পাশের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবার জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে একজন মেয়ে। সেটিও একটি ভিন্ন মাত্রা বহন করছে।
হুগলির ধনেখালির সোহিনী মেধা তালিকায় ষষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি জেলার প্রথম স্থান প্রাপক। সে পড়াশোনার পাশাপাশি গান ও নাচের চর্চা করে। গল্প ও কবিতা লেখার নেশা আছে মেধাবিনীর। তবে সে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। সোহিনীর বাবা গোরাচাঁদ কোলে ও মা শম্পা দাস দুজনেই শিক্ষকতা করেন। অরিজিৎ সিংয়ের গান-পাগল সোহিনী বলে, পড়াশোনা ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল। সেভাবেই পড়েছি। মেধা তালিকার কথা ভেবে পড়িনি। তবে পরীক্ষা দেওয়ার পরে একটি প্রত্যাশা ছিল।
৬৯১ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় সপ্তম হয়েছে পুরশুড়ার তানিশা ফকির ও আরামবাগ হাইস্কুলের অর্কপ্রভ পাল। তানিশা হাওড়ার বাসিন্দা এবং অর্কপ্রভ আরামবাগের বাসিন্দা। ৬৯০ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অধিকার করেছে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন বহুমুখী বিদ্যালয়ের সৌমাল্য ঘোষ। আরামবাগ গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী তমোহা কুণ্ডু মেধা তালিকায় নবম স্থান পেয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। একই নম্বরসহ মেধা তালিকায় জায়গা করে নজর কেড়েছে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন বহুমুখী বিদ্যালয়ের সম্বর্ত বেতাল ও খানাকুলের সেকেন্দারপুর রায়বাহাদুর কেপি পাল হাইস্কুলের প্রত্যয় সামন্ত। কোন্নগরের বাসিন্দা উপায়ন পাল শ্রীরামপুর মাহেশ রামকৃষ্ণ আশ্রম বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ থেকে মেধা তালিকায় নবম হয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। তার বাবা হরিপালের স্কুল শিক্ষক। বরাবরের মেধাবী উপায়ন ভবিষ্যতে গবেষক হতে চায়। উপায়ন বলে, ভালো ফল আশা করেছিলাম। কিন্তু মেধা তালিকায় জায়গা পাওয়ার কথা ভাবিনি। মাহেশের স্কুলটির শিক্ষার্থীরা এবারও প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে। নিজস্ব চিত্র