বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় আয়ুষ্মান ভারত, নারী নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব
বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বর্ধমান: দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান হতে চলেচে। রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। বাংলায় নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, এখানে ক্ষমতায় এলে অবিলম্বে চালু করা হবে এই প্রকল্প। সেই মতো নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। এছাড়া, নারী নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া সরলীকরণ সংক্রাম্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই গৃহীত হতে পারে বলে খবর।
আজ, শনিবার বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকীতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন একাধিক জয়ী প্রার্থী। ব্রিগেড থেকে মহাকরণ হয়ে বিধানসভার অ্যনেক্স বিল্ডিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানেই বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৭-এ বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসে শপথ গ্রহণের দিনই মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছিল। সেই দিনই রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাম সরকার। ২০১১ সালের পালাবদলের পরও শপথ গ্রহণের দিনেই বসেছিল মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। সেদিনই সিঙ্গুরের ‘অনিচ্ছুক কৃষকদের’ জমি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্যের নতুন সরকারও শপথের দিনেই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বসছে। ওয়াকিবহাল মহলের স্বাভাবিক প্রত্যাশা, বড়োসড়ো সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে সেই বৈঠক থেকে।
তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে এবারের বিধানসভা ভোটে বিজেপির অন্যতম অস্ত্র ছিল নারী নিরাপত্তার ইস্যু। আর জি কর-কাণ্ড সারা দেশেই সাড়া ফেলেছিল। সেই ঘটনায় এ রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠে যায়। তাই প্রথম বৈঠকেই এনিয়ে সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতিতেও মতুয়ারা বিজেপির উপরেই আস্থা রেখেছে। নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা বা পূর্ব বর্ধমানের মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিপুল জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। তাঁদের কথা মাথায় রেখে নাগরিকত্বের আবেদনের প্রক্রিয়া আরও সরল করার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধাম্ত হতে পারে। সূত্রের খবর, অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও নয়া সরকার বড়ো পদক্ষেপ করতে চলেছে। জমি জটের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া যায়নি। সেই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে জোর দেওয়া হবে প্রথম মিটিংয়েই।
বিজেপির এক রাজ্যস্তরের নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতারা ভোট প্রচারে এসে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সবই বাস্তবায়িত করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হবে, তার রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। নারী সুরক্ষার জন্য নতুন বাহিনী তৈরি করা হতে পারে। পুলিশেও ধাপে ধাপে আমূল বদল করা হবে। মহিলা সংক্রান্ত কোনো মামলা হলে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়, তার ব্যবস্থা হবে। আর এক নেতা বলেন, ‘মানুষ সমস্যায় পড়বে, এমন কোনো প্রকল্প বন্ধ হবে না। তবে কিছু নতুন প্রকল্প এনে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির।’