চন্দ্রনাথ হত্যায় লাল গাড়ির ফুটেজ ঘিরে রহস্য, পড়শি রাজ্যের জেলে বসে খুনের ছক!
বর্তমান | ০৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি হয়েছে পড়শি রাজ্যের জেলে বসেই! তদন্তে নেমে এমনই ইঙ্গিত পাচ্ছেন সিটের সদস্যরা। জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথকে খুনের কন্ট্রাক্ট নিয়েছিল ভিনরাজ্যে জেলবন্দি এক ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন’। শার্প শ্যুটার গ্যাংয়ের সেই মাথাকে সাহায্য করেছিল কারাগারে থাকা আরও এক কুখ্যাত অপরাধী। বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যে তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে। সেই গ্যাংয়ের সদস্যরাই এসেছিল মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায়। তদন্তে উঠে আসা সূত্র ধরে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের জেলে বন্দি ওই দুই অপরাধীকে জেরা করা হয়েছে বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গে জেলবন্দি বিহারের বড়ো কোনো ডন এক্ষেত্রে যোগসূত্র হিসাবে কাজ করেছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। গত বুধবার রাতে চন্দ্রনাথের পথ আটকানো গাড়িটি ঝাড়খণ্ডের বলেই জানা গিয়েছে এদিন। খুনে ব্যবহৃত আরও একটি বাইককে শুক্রবার বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেটের কাছ থেকে উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। সেটিও চুরি যাওয়া বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের উলটোদিকের একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আরও একটি লাল রঙের গাড়িকে দেখা গিয়েছে। চন্দ্রনাথের পথ আটকানো গাড়িটির পিছনেই সেটি যাচ্ছিল। লাল গাড়িটির পিছনে আলো জ্বলায় নম্বর প্লেট স্পষ্ট নয়। সেই গাড়িটিরও খোঁজ চলছে।
চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তে নেমে অফিসাররা বিভিন্ন ফোন কল ও টাওয়ার ডাম্পিং বিশ্লেষণ করেছেন। তাতেই জানা গিয়েছে, পড়শি রাজ্য বিহার ও ঝাড়খণ্ডের জেল থেকে বেশ কয়েকবার ফোন কল এসেছিল মধ্যমগ্রামের আশপাশে। তাতেই জেলে বসে খুনের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরির ক্লু মেলে। বোঝা যায়, নেপথ্যে বড়ো কোনো ডন রয়েছে। তদন্তে ঝাড়খণ্ড ও বিহারে জেল বন্দি দুই ডনের নাম উঠে আসে, যারা যৌথভাবে সুপারি নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে পেশাদার অপরাধী পাঠিয়ে খুন করাতে সিদ্ধহস্ত। সূত্রের খবর, এরপর দুই জেলবন্দিকে জেরা করতে যায় তদন্তকারী টিম। ঝাড়খণ্ডে জেলবন্দি ডনের দুবাইতে যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে এও উঠে এসেছে, চন্দ্রনাথ খুনের সুপারিতে মিডলম্যানের কাজ করেছে এক মাফিয়া। গোটা পরিকল্পনার মূল চক্রীই মাঠে নামিয়েছিল তাকে।
চন্দ্রনাথকে খুনের সুপারি নেওয়ার পর শার্প শ্যুটারদের টিম তৈরি করে পাঠানো হয় পশ্চিমবঙ্গে। তাদের নিয়ে আসার জন্য ঝাড়খণ্ড থেকে চুরি যাওয়া গাড়ি কেনা হয়েছিল। সেটি বিক্রি করেছিল মোটর-চোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর নষ্ট করে ফেলা ওই গাড়িতে করেই রাজ্যে আসে শার্প শ্যুটাররা। গাড়িটির মালিক কে এবং কোথা থেকে চুরি গিয়েছিল, তা জানতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। জানা যাচ্ছে, ভিনরাজ্য থেকে আসা এই শ্যুটাররা সংখ্যায় ৫-৬ জন ছিল। তারা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে পালিয়েছে। আসা-যাওয়ার জন্য গোটা পাঁচেক গাড়ি ব্যবহার হয়েছে। সেগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার জন্য নিজেদের তৈরি করা একটি অ্যাপ ব্যবহার করছিল, যাতে পুলিশের নজর এড়াতে পারে।