নতুন বিজেপি সরকারের শপথের দিন রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের কর্মসূচিতে থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক না-হলেও আজ, শনিবার ২৫শে বৈশাখের এই অনুষ্ঠানেই বিরোধী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের আশু কর্তব্যের কথা জানাতে পারেন তিনি। কালীঘাটের বাড়িতে শুক্রবার দলের সাংসদ, বিধানসভা ভোটে বিজয়ী প্রার্থী ও কয়েক জন নেতার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে সে সব নিয়েই আলোচনা করেছেন তিনি। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশন যে ভোট-তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে ‘গরমিলে’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেসও। ভবানীপুরের প্রশ্নে তারা কার্যত মমতারই পাশে দাঁড়িয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, নির্বাচন নিয়ে দলের অভিযোগগুলির ভিত্তিতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে এ দিন দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। এই ব্যাপারে প্রাক্তন পুলিশ-কর্তা তথা তৃণমূল সাংসদ রাজীব কুমার, আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মামলা সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মমতা। এই সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ ও ইত্যাদি নিয়ে আলোচনায় ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার যে কথা মমতা বলেছেন, সে সম্পর্কে কথা হয়েছে। বৈঠকে মমতা বলেছেন, ‘ভোটার তালিকা তৈরি থেকে গণনা পর্যন্ত যা হয়েছে, তা ব্যতিক্রমী। আমরা বিচার চাইব’।
কালীঘাটে এ দিন গিয়েছিলেন সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন, সদ্য নির্বাচিত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষেরা। সেখানেই নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে কথা উঠেছে। এই নির্বাচনী ফল না-মানলেও তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, বিজেপি সরকার জনস্বার্থ রক্ষা করে কি না, সে দিকে নজর রাখাই বিরোধী হিসেবে তাঁদের প্রধান কাজ। বৈঠকে এক নেতা বলেন, ‘শুরুতেই সুর চড়িয়ে বিরোধিতার বদলে দলের আক্রান্ত নেতা-কর্মীদের পাশে থাকাই প্রধান কাজ’। দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, কালীঘাট চত্বরে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের তরফে রবীন্দ্র জয়ন্তীর তিনটি অনুষ্ঠান করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। বৈঠক শেষে কুণাল বলেন, ‘‘সরকার নিয়ে আমাদের এখনই কিছু বলার নেই। মমতাদি নজর রাখছেন।’’
কমিশনের দেওয়া তথ্যকে হাতিয়ার করেই ভোট ও ফলপ্রকাশের দিন এবং শুক্রবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রাজ্যে ভোটদানের হার মিলছে না, এমন দাবি করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার কেন্দ্রে ভোটার নিয়ে ‘জালিয়াতি’ হওয়ায় বিজেপি জিতেছে বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের দফতর বিধান ভবনে এ দিন ভোট-তথ্য নিয়ে সরব হয়েছেন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, দলের এসআইআর সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারপার্সন প্রসেনজিৎ বসু-সহ অন্যেরা। প্রসেনজিতের বক্তব্য, “২৮ ফেব্রুয়ারির পরে, ফর্ম-৬ (নতুন নাম তোলার জন্য) জমা দেওয়ার সময় পেরোনোর পরে ন্যূনতম ৫ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। ভবানীপুরে সংখ্যাটা ৫ হাজারের বেশি। কমিশন জালিয়াতি না-করলে, এটা হয় না। এর জন্যই ভবানীপুরে মমতাকে বিজেপি হারাতে পেরেছে।”
প্রসেনজিতের সংযোজন, “২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন কমিশন বলল ৯২.৪৭% ভোটদান। আজকের বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, ভোটদান ৯৩.৭১%। অর্থাৎ ১%-এর বেশি ভোটদান বাড়ল। আবার ৪ তারিখ ফলপ্রকাশের দিন অন্য কথা বলেছে। শতাংশটা যে সংখ্যার উপরে ভিত্তি করে হয়েছে, তা-ও বদলেছে কমিশন। হিসাব মেলাতে পারছে না বলেই কি এখনও ফর্ম-২০ (ভোট গণনার পরে চূড়ান্ত ফল) আপলোড করতে পারেনি তারা?” প্রসেনজিতেরা এমন দাবি করলেও কমিশনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে পোস্টাল ব্যালটের তথ্য যোগ করে, তাতে স্বাভাবিক ভাবেই ভোটার যোগ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্করও বলেছেন, “কত মানুষ ভোটার ছিলেন, কত জন ভোট দিয়েছেন, এই জায়গায় গরমিল রয়েছে। কোনও স্বচ্ছতা নেই।” এই প্রেক্ষিতে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ধরে প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে কত ভোটার সংযুক্ত ও বাদ গিয়েছে, তার স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশের দাবি তুলেছে তারা।