• পড়াশোনার চাপ সামলেও সৃজনশীল কাজে উজ্জ্বল নরেন্দ্রপুর
    আনন্দবাজার | ০৯ মে ২০২৬
  • কেউ তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় পারদর্শী, কেউ চুটিয়ে নাটক করে, কেউ আবার ভালবাসে তবলা বাজাতে। মেধা তালিকায় প্রথম দশে থাকা নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের ছাত্রেরা পড়াশোনার বাইরেও পটু নানা বিষয়ে। প্রতি বারের মতো এ বারও মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই স্কুলের একাধিক ছাত্র। প্রথম দশে এ বার এই স্কুলের সাত জন ছাত্র রয়েছে।

    ৬৯৫ নম্বর পেয়ে স্কুলে প্রথম এবং রাজ্যে তৃতীয় হয়েছে সৌর জানা। পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সৌরের বাবা ও মা, দু’জনেই ভূগোলের শিক্ষক। সৌরেরও প্রিয় বিষয়
    ভূগোল। তবে আপাতত বিজ্ঞান নিয়েই পড়বে সে। ইচ্ছে আছে চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে গবেষক হওয়ার। সেই সঙ্গে সৌর নাটক ভালবাসে। প্রতি বছরই স্কুলে শ্রেণিভিত্তিক নাটকে অভিনয় করে সে। পরবর্তী কালে পড়াশোনা সামলেই নাট্যচর্চা চালিয়ে যেতে চায় সৌর। সে আরও জানাচ্ছে, স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি সারা বছর বন্ধুরা মিলে চুটিয়ে খেলাধুলোও করেছে।

    ৬৯৩ পেয়ে মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে স্যমন্তক কুন্ডু। আরামবাগের ছেলে স্যমন্তক চায় ইঞ্জিনিয়ার হতে। সেই লক্ষ্যে পড়াশোনাও শুরু করে দিয়েছে সে। ৬৯১ নম্বর পেয়ে সপ্তম স্থানাধিকারী, বারুইপুরের সোমজ্যোতি দাস চিকিৎসক হতে চায়। সে জানাল, মাধ্যমিকের পর থেকেই সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসার প্রস্ততি শুরু করে দিয়েছে। ৬৯০ নম্বর নিয়ে যুগ্ম ভাবে অষ্টম স্থানে রয়েছে সৌম্যকান্তি কুইলা এবং জীবিতেশ কয়াল। তমলুকের সৌম্যকান্তি তবলা বাজাতে ভালবাসে। স্কুলের নানা অনুষ্ঠানে তবলা বাজায় সে। আগামী দিনে ডাক্তারি পড়তে চায়। চালিয়ে যেতে চায় তবলার চর্চাও। জীবিতেশের আদি বাড়ি গোসাবায়। তবে, পরিবারের লোকজন এখন নরেন্দ্রপুরেই থাকেন। ডাক্তার হতে চায় জীবিতেশও।

    ৬৮৯ পেয়ে নবম স্থানে আছে ঐশিক চক্রবর্তী। মেদিনীপুর শহরের ছেলে ঐশিক তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্কে পারদর্শী। স্কুলে তো বটেই, স্কুলের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতেছে সে। ভালবাসে আবৃত্তি করতেও। আপাতত ডাক্তারি পড়ার প্রস্তুতি চালাচ্ছে ঐশিক। সে জানাল, ভাললাগার বিষয়গুলি কখনওই ছাড়তে চায় না। ৬৮৮ নম্বর পেয়ে দশম স্থানে থাকা অনুরাগ মণ্ডলও ভালবাসে নাটক করতে। বনগাঁর ছেলে অনুরাগ উচ্চতর পড়াশোনা শুরু করেছে চিকিৎসক হওয়ার জন্য। তবে নাটকে অভিনয়ও চালিয়ে যেতে চায় সে।

    নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বামী ইষ্টেশানন্দ বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলো-সহ সার্বিক বিকাশের দিকে এখানে নজর দেওয়া হয়। সকলেই পড়াশোনার পাশাপাশি নানা সৃজনশীল কাজ করে। এ বারও যারা মেধা তালিকায় রয়েছে, তারা কেউ নাটক, কেউ তবলা, কেউ আবৃত্তিতে পারদর্শী। পড়াশোনার সঙ্গেই এগুলো করে এসেছে তারা।” তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ, অনুশাসন—সব মিলিয়েই এখানকার ছাত্রেরা ভাল ফল করে। এ বারও ইংরেজি ও বাংলা— দুই মাধ্যমের ছাত্রেরাই ভাল ফল করেছে। তবে, ইংরেজি মাধ্যম থেকে কেউ মেধা তালিকায় আসতে পারেনি। আশা করি, আগামী দিনে ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রেরাও মেধা তালিকায় জায়গা করে নেবে।”

    নরেন্দ্রপুরের পাশাপাশি ফলাফলে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে এ বারও মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে সোনারপুরের সারদা বিদ্যাপীঠ। ওই স্কুলের ছাত্রী বিদিশা হালদার ৬৯২ পেয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই এই স্কুল থেকে পড়ুয়ারা প্রথম দশে থাকছে। প্রধান শিক্ষিকা মানসী চৌধুরী জানান, এ বারও ফল যথেষ্ট ভাল হয়েছে। বিদিশা ছাড়াও প্রথম কুড়ি জনের মধ্যে স্কুলের আরও সাত পড়ুয়া রয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)