• ১২ বছর পরেও ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে পারলেন না মা 
    আনন্দবাজার | ০৯ মে ২০২৬
  • শিশুসন্তানের ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর পরে কেটে গিয়েছে এক যুগ। কিন্তু ছেলে কী কারণে মারা গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা মায়ের। সন্তান রাজন্য সরকারের মৃত্যু নিয়ে পুলিশে অভিযোগ, কোর্টে মামলা করেছিলেন দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা রুচিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি এখনও। কবে মামলা শেষ হবে, তা-ও জানেন না রুচিরা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘ছেলে স্কুলে গিয়ে কেন হঠাৎ করে মারা গেল, কার গাফিলতি ছিল—সেই প্রশ্নের উত্তর আদৌ পাব কি?’’ রুচিরার আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা জানান, আপাতত রুচিরার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। কেন তিনি ওই স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, সেই বয়ান নিচ্ছে আদালত। সাক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য তথ্য উঠে আসছে। জুন মাসে মামলার পরবর্তী শুনানি।

    ২০১৪ সালের ৮ মে দক্ষিণ কলকাতার একটি নামী স্কুলের প্রথম শ্রেণির পড়ুয়া রাজন্য মারা যায়। সে সময়ে তার বয়স ছিল সাড়ে ছ’বছর। রুচিরা বলছেন, ‘‘ছেলে বেঁচে থাকলে আজ আঠারো বছর হত। স্কুল পেরিয়ে কলেজে পড়ত!’’ তিনি জানান, ঘটনার দিন সকাল ৭টা নাগাদ তিনি ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে এসেছিলেন। সকাল সওয়া ১০টা নাগাদ রুচিরা ছেলের অসুস্থতার খবর পান। তাঁকে এ-ও জানানো হয়েছিল, রাজন্যকে স্কুলের কাছাকাছি একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রুচিরা সেখানে পৌঁছনোর পরে জানতে পারেন, ছেলে মারা গিয়েছে। তিনি স্কুলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে মামলা করেন। স্কুলের অধ্যক্ষ এবং এক জন শিক্ষিকার নামে নির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল তাঁর। রুচিরার অভিযোগ, গোড়া থেকেই পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ময়না তদন্তের রিপোর্টেও ছিল অস্বচ্ছতা। এই মামলায় আলিপুর কোর্টে রুচিরার আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতার সওয়ালে এই বিষয়গুলি উঠে এসেছিল।

    তদন্তের পরে পুলিশ তাদের রিপোর্টে জানায়, রাজন্যের শরীরে বিষক্রিয়া মেলেনি। মৃত্যুর পিছনে অপরাধের প্রমাণও মেলেনি। গাফিলতি অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ রাজন্যের কোনও অসুখ ছিল কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও রুচিরার দাবি, স্কুলে ভর্তির আগে ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর ছেলের কোনও অসুখ ধরা পড়েনি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)