• বাবা-দিদির মতো ‘জনপ্রিয়তা’ পাননি! অজস্র কটাক্ষ কি অজয় চক্রবর্তীর ছেলে অনঞ্জনের উপর প্রভাব ফেলেছে?
    আনন্দবাজার | ০৯ মে ২০২৬
  • বিনোদনজগতে ‘নেপোটিজ়ম’ শব্দটা মাঝে মাঝেই শুনতে পাওয়া যায়। জনপ্রিয় তারকার সন্তান আলোচনায় থাকলে কারও কারও ক্ষেত্রে সমস্যা। আবার তাঁদের নিয়ে আলোচনা না হলেও নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়। যেমন কিছু দিন আগে সঙ্গীতশিল্পী অজয় চক্রবর্তীর ছেলে অনঞ্জন চক্রবর্তী সমাজমাধ্যমে জানান, তাঁকে নাকি শুনতে হয়েছে যে, বাবা বা দিদি কৌশিকী চক্রবর্তীর মতো জনপ্রিয় তিনি হতে পারেননি।

    ছোট থেকেই সঙ্গীতের পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা। ‘সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার’ বা শব্দযন্ত্রী হিসাবে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাঁর বেশ নামডাক। মুম্বইতে থেকে দেশের শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন অনঞ্জন। চারিদিকে এমন নেতিবাচক মন্তব্য কি প্রভাব ফেলে তাঁর উপরে?

    আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে বহু অনুষ্ঠানে গিয়েছি। এমনও হয়েছে ‘গ্রিনরুম’-এ বাবা ঢুকেছেন। বাউন্সারেরা আমাকে আটকে দিয়েছেন। তখন অনুরোধ করে বলেছি, ‘আমি ওঁর ছেলে। আমাকে যেতে দিন।’ এই সব শুনে অনেকে পিছন থেকে হেসেওছেন।” কিন্তু সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে তিনি তৃপ্ত। একটা গান তৈরির প্রক্রিয়ার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত থাকা তাঁর কাছে সৌভাগ্যের বিষয়। কোনও গায়ক-গায়িকাও সাধারণত এই পুরো প্রক্রিয়ার সাক্ষী হতে পারেন না।

    অনঞ্জন বলেন, “অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাকে। কোনও একটি মেয়েকে ভাল লেগেছে। তাঁকে প্রেমপ্রস্তাব দিয়েছি। তিনি হয়তো আমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন পরিবার আর বাবা-দিদির জনপ্রিয়তা দেখে।”

    কিন্তু কোনও নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের উপরে প্রভাব ফেলতে দেন না অনঞ্জন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মিউজ়িক প্রোডাকশনের ট্রেনিংকে আমি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। প্রায় ৪৫০ জন ছাত্রছাত্রী আজ নিজের হাতে নিজের গান বানাতে শিখেছেন। প্রায় ১০০ জন শিল্পী তাঁদের কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরার একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন। আমি ‘নাম’ করিনি ঠিকই — কিন্তু আমি ‘সুযোগ’ তৈরি করেছি। গত দু’বছর ধরে আমি ৭৫ জন ছাত্রছাত্রীকে অনলাইন গানের ক্লাসে সাহায্য করছি, যাঁরা বিভিন্ন কারণে পদ্ধতিগত ভাবে গান শিখতে পারেননি।” আধুনিক গানকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)