• নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ উপহার দিতে চান হুমায়ুন
    আজকাল | ০৯ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য মুর্শিদাবাদ জেলার বিখ্যাত ছানাবড়া এবং বেলডাঙার মনোহরা মিষ্টি উপহার নিয়ে যাবেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান তথা মুর্শিদাবাদে রেজিনগর ও নওদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী আগামী কয়েক দিন প্রচন্ড ব্যস্ত থাকায় হুমায়ুন তাঁর হাতে আজ এই উপহার তুলে দেবেন না। আগামী ১৪ এবং ১৫ তারিখ তিনি যখন রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করবেন এবং নওদা বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে শপথ নেবেন সেই দিনই বিধানসভায় গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে মুর্শিদাবাদ জেলার এই দুই বিখ্যাত মিষ্টি হুমায়ুন তুলে দেবেন বলে শনিবার জানিয়েছেন। 

    হুমায়ুন নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় শুভেন্দুকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার জন্য নিজের দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর আগামী রাজনৈতিক জীবন আরও উজ্জ্বল ও সাফল্যমণ্ডিত হোক, এই কামনাই করেছেন হুমায়ুন। তিনি লিখেছেন, “বাংলার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আমার তাঁর কাছে বিশেষ দাবি— নতুন সরকারের হাত ধরে আমাদের এই প্রিয় রাজ্য যেন শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির হয়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” আজকাল ডট ইন-কে হুমায়ুন বলেন, “১৫ বছর আগে তৃণমূলের সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অনেক প্রত্যাশা জাগিয়েছিলেন। মানুষকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি সততার প্রতীক ছিলেন। পরে তিনি চোরেদের রানি হয়ে উঠেছিলেন। আমি আশা করব আগামী দিন যাতে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আমরা এই অভিযোগ তুলতে না পারি।”

    তিনি বলেন, “এই জেলার সংখ্যালঘু ভোটারদেরকে বরাবরই ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এবার মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির আট জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আমি আশা করব এই জেলার মানুষের সঙ্গে যেন প্রবঞ্চনা না করা হয়।”

    রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হুমায়ুন যে ডাক পাননি তা জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের কয়েকজন আধিকারিক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং জানতে চেয়েছিলেন আমি আসব কিনা। তবে পরবর্তীকালে তাঁরা আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।” ভোটপ্রচার পর্বে বরাবরই বিজেপির নিশানায় থাকা হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি কারও দয়ায় রাজনীতি করি না। তাই আমার কোনও আশঙ্কা নেই। সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরোধ তারা যেন সব জায়গায় সমান উন্নয়ন করেন। তা না হলে তৃণমূল সরকারের যে হাল জনগণ করেছেন অন্য সরকারেরও একই অবস্থা করতে পারে। আগামী বছরই রাজ্যে একাধিক পুরসভায় নির্বাচন। তারপরে পঞ্চায়েত নির্বাচন রয়েছে। আমি আশা করব বিজেপি সরকার যেন মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করে। আর মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ যদি উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব না পায় তাহলে হুমায়ুন কবীর ফের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে।”

    এরপরই হুমায়ুন কবীর বলেন, “আগামী ১৪ এবং ১৫ মে আমি রেজিনগর বিধানসভার বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করব এবং নওদা বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে রাজ্য বিধানসভায় গিয়ে শপথ গ্রহণ করব। আমি জানতে পেরেছি আপাতত রাজ্যের সচিবালয় বিধানসভাতেই থাকছে। তাই সেই সময় আমি বিধানসভায় গিয়ে রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অবশ্যই দেখা করার চেষ্টা করব।” হুমায়ুন জানান, “আমি যেদিন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিধানসভায় দেখা করতে যাব সেদিন তাঁর জন্য আমি মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের বিখ্যাত ছানাবড়া এবং বেলডাঙা শহরের মনোহারা মিষ্টি যাব।। আমি সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। ভোটপ্রচার পর্বে কোন দল আমার বিরুদ্ধে কী বলেছে তা আমি মনে রাখতে চাই না। তাই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে আমার জেলার সব থেকে বিখ্যাত মিষ্টি খাইয়ে তাঁকে নতুন চলার পথের শুভেচ্ছা জানাব।”
  • Link to this news (আজকাল)