ধেয়ে আসছে শক্তিশালী কালবৈশাখী, ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস কতদিন?
আজ তক | ০৯ মে ২০২৬
মে মাস পড়লেও বাংলার আবহাওয়ায় এখনও গ্রীষ্মের সেই চেনা তাপপ্রবাহের দেখা নেই। বরং ভরা বৈশাখেই আকাশে জমছে বর্ষার মেঘ। গত কয়েকদিন ধরে বিকেল নামলেই কলকাতা থেকে মফস্বল, রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ ভিজছে কালবৈশাখী, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো বৃষ্টিতে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবারও এই পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হবে না। বরং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে কমলা সতর্কতা
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় আছড়ে পড়তে পারে। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় জারি করা হয়েছে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বা কমলা সতর্কতা। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।
কেন হচ্ছে এই অকাল ঝড়বৃষ্টি?
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে দুটি বড় কারণ। উত্তরপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। এই দুইয়ের মিলিত প্রভাবে তৈরি হচ্ছে বজ্রগর্ভ মেঘ, যা কালবৈশাখীর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই অস্থির আবহাওয়া আগামী ১০ মে পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির দাপট
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও জারি থাকবে বৃষ্টির পূর্বাভাস। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির মতো পার্বত্য ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রবিবারও দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
সতর্ক থাকার পরামর্শ
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। খোলা মাঠ, গাছের তলা বা জলাশয়ের ধারে আশ্রয় না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ঝড়ের সময় কাঁচা বা জরাজীর্ণ বাড়ির কাছেও না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ পাকা বাড়িতে থাকার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।