বাংলায় গড়াচ্ছে 'ডাবল ইঞ্জিনে'র চাকা, কোন কোন প্রকল্প চালু হচ্ছে?
আজ তক | ০৯ মে ২০২৬
শনিবার ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও নতুন সরকার গঠন হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে লাগু করার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, তৃণমূল সরকারের বিরোধিতা বা প্রশাসনিক বাধার কারণে গত ১২ বছর ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলির একটি তালিকা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের দাবি, এই সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর উপর দেওয়া হয়েছে। তিনি এ রাজ্যে আটকে থাকা স্কিমগুলির বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। মন্ত্রকগুলি ইতিমধ্যেই প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দিতে শুরু করেছে। নতুন সরকার গঠনের পরেই এই প্রকল্পগুলি শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।
অনেক বড় স্কিমের সুবিধা পাওয়া যাবে
আয়ুষ্মান ভারত: যে স্কিমটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেটি হল আয়ুষ্মান ভারত। এই স্কিমটি মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সরকার বাস্তবায়ন করতে রাজি হয়নি বলে অভিযোগ। আয়ুষ্মান ভারত-এর আওতায়, যোগ্য পরিবারগুলি ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমা পাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যুক্তি ছিল, রাজ্যের 'স্বাস্থ্য সাথী' প্রকল্পটি আরও উন্নত। তবে PM মোদী জানিয়েছেন, নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত অনুমোদন পাবে।
পিএম কিষান: এই স্কিমাটি নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় সরকার নিজস্ব 'কৃষি বন্ধু' প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। যদিও পরে এটি আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। এখন, কেন্দ্র সরকার এটি পূর্ণ শক্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY) নাম পরিবর্তন করে বাংলা আবাস যোজনা (BANGLA AWAYS) রাখার দাবি করা হয়। বলা হয়, অনিয়মের জেরে ২০২২ সালে এই স্কিমে টাকা অ্যাপ্রুভ বন্ধ করেছিল কেন্দ্র সরকার। প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার জন্য এখন প্রস্তুতি চলছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা অনেক দেরিতে বাস্তবায়িত হয়েছিল। অপরদিকে, জল জীবন মিশনে বরাদ্দকৃত তহবিলের আরও ভালো ব্যবহার এবং কার্যকর বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব দেবে।
সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ: আন্তর্জাতিক বর্ডারে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ ছিল, বাংলার সরকার প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না। কিন্তু এখন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই স্কিমটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রধানমন্ত্রী শস্য বিমা প্রকল্পের পরিবর্তে ‘বাংলা শস্য বিমা’ নামে নিজস্ব একটি প্রকল্প চালু করে। রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, তাঁদের এই মডেলটি কৃষকদের জন্য বেশি উপকারী, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জনের একটি চেষ্টা বলে সমালোচনা করে এসেছে। এবার বাংলায় এই স্কিমটিও লাগু হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কৌশল সুস্পষ্ট: দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার মাধ্যমে ‘ডাবল-ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রভাব প্রদর্শন করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলোর পরিধি ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, যাতে এই প্রকল্পগুলোর প্রত্যক্ষ সুফল যতটা সম্ভব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়।