'৩০ লক্ষ ভোটার বঞ্চিত। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।' একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে, তখন ফের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেন তৃণমূল সাংসদ।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং প্রায় ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট ছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা প্রক্রিয়া পর্যন্ত একাধিক ঘটনায় মানুষের মনে প্রকৃত জনমত প্রতিফলিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন EVM-এর স্থানান্তর ও ব্যবস্থাপনা, কন্ট্রোল ইউনিটের অসঙ্গতি সহ নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।
এদিকে, ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা, কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো এবং আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বহু কর্মী নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
অভিষেকের বক্তব্য, 'গণতন্ত্রে কোনও রাজনৈতিক কর্মীকে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।'
তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে দল দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গ, উভয় ক্ষেত্রেই শক্তিশালী ও আপসহীন বিরোধী শক্তি হিসেবে মানুষের পাশে থাকবে। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
দলীয় কর্মী সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কেউ যদি ভোট পরবর্তী হিংসা, ভয়ভীতি বা হুমকির শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাঁদের সামনে এসে বিষয়টি জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁকে DM করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন অভিষেক। প্রয়োজনীয় আইনি ও গণতান্ত্রিক পথে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।