• ব্রিগেডে বাংলায় শপথপাঠ, শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নপূরণ করে বঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
    প্রতিদিন | ০৯ মে ২০২৬
  • অপেক্ষার অবসান। ব্রিগেডের মেগা অনুষ্ঠানে শপথগ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তিনি। গেরুয়া পোশাকে শপথ নেন শুভেন্দু। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি।

    মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনীয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু শপথ গ্রহণ করেন। 

    শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায় সেজে উঠেছে ব্রিগেড চত্বর। কীর্তন, ছৌ নাচ, বাউল গান, ধামসা-মাদলের তালে ভরে ওঠে ব্রিগেড। মঞ্চে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি। সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর, দুর্গার ছবির কোলাজ। জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে মুখরিত ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।

    শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু ভিভিআইপি। মঞ্চে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শেষযাত্রার সঙ্গী শিলিগুড়ির মাখনলাল সরকার। দিল্লিতে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। সেই মাখনলাল সরকারকে মঞ্চে সংবর্ধনা জানান মোদি। তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করেন তিনি।

    শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বাম আমলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনিই। সিপিএমের গড় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিরোধীরা মাথা তুলে দাঁড়ায়। বাম সরকারের পতনের অন্যতম কারণ ছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলন। সেকথা মেনে নেয় রাজনৈতিক মহল। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা পোক্ত করেছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে পরাস্ত করেছিলেন। এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। ঘরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাবেন, সেই কথা জোর গলায় দাবি করেছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন হয়। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ২০৭টি আসন জিতে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় প্রথমবার এসেছে। সেই ইতিহাসের কাণ্ডারীও শুভেন্দু, এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    ব্রিটিশ আমলে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তাম্রলিপ্ত সরকার গঠিত হয়েছিল। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন বিপ্লবী দেশপ্রাণ শাঁসমল, মাতঙ্গিনী হাজরা। সেই আন্দোলনের মাটি থেকেই শুভেন্দু অধিকারী এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী একসময় নিজে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী-সহ অন্যান্য মন্ত্রী সব কলকাতা ও আশপাশের এলাকা থেকে হত। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদ সবই কলকাতার বিজয়ী বিধায়করা পেতেন! জেলা বরাবরই উপেক্ষিত থাকত। জেলায় আন্দোলন করে ভোটে জিতে আসা বিধায়করা বরাবর থাকতেন পিছনের সারিতে। বড় জোর প্রতিমন্ত্রী করা হত! জেলা থেকে রাজ্য পরিচালনা হবে, সেই ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু। এবার সেই কথাই বাস্তবায়িত হল। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)