• এক ব্রিগেডে শুরু, ১৫ বছর পর বদলের বাংলার ব্রিগেডে বৃত্ত সম্পন্ন শুভেন্দুর, অনুঘটক অভিষেকই?
    প্রতিদিন | ০৯ মে ২০২৬
  • ২০১১ সালের ২১ জুলাই। প্রথা বদলে তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশ ব্রিগেডে। হবে না-ই বা কেন। মাত্র মাস দু’য়েক আগে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় মা-মাটি-মানুষের সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করলেন একুশের সমাবেশই হবে বিজয় দিবস। কিন্তু সেদিনের সেই বিজয় দিবসের মঞ্চেই বোধহয় ১৫ বছর বাদে রাজ্যে তৃণমূলের পতনের বীজটি বপণ করা হয়েছিল। সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হচ্ছে সেই ব্রিগেডেই।

    আসলে ২০১১ সালের ওই ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ থেকেই তৃণমূল ‘যুবা’ তৈরির ঘোষণা করেছিলেন মমতা। অনেকে বলেন, তৃণমূলের যুব সংগঠন থাকা সত্ত্বেও অভিষেকের জন্য ‘যুবা’ নামের সমান্তরাল সংগঠন তৈরির মূল উদ্দেশ্যই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতির মূলস্রোতে আনা। তাঁর আগে অভিষেকের একটাই পরিচয় ছিল মমতার ভাইপো। এগারোর ওই ব্রিগেড সমাবেশ থেকে ‘যুবা’র প্রধান হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আরও একটা জিনিসের সূত্রপাত হয়ে যায়। সেটা হল মমতা-শুভেন্দুর দূরত্ব। আসলে ওই সমাবেশের কিছুদিন পরেই শুভেন্দুকে সরিয়ে তৃণমূলের মূল যে যুব সংগঠন সেই যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে শুভেন্দুকে সরিয়ে আনা হয় সৌমিত্র খাঁ-কে। সেই পর্বেই দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল, যুব সংগঠন থাকার পরেও কেন সমান্তরাল আরও একটি সংগঠন? প্রশ্ন উঠছিল, দলের উঠতি জনপ্রিয় মুখ শুভেন্দুকে ক্ষমতার বৃত্ত থেকে সরাতেই কি যুবা আনা? পরে যুবর দায়িত্বও ঘুরপথে চলে যায় অভিষেকের হাতেই। আসলে সেটাই ছিল তৃণমূলের ক্ষমতা শুভেন্দুর হাতে তুলে দেওয়ার সূচনা। অন্তত পোড়খাওয়া রাজনীতিকদের তেমনটাই ধারনা।

    এরপর ২০১৪ সালে অভিষেককে সোমেন মিত্রর ছেড়ে আসা ডায়মন্ড হারবার আসনে টিকিট দেওয়া হয় অভিষেককে। অভিষেক যখন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ পদের জন্য প্রার্থী হন, তখন ডায়মন্ড হারবার তৃণমূলের জন্য ‘সেফ সিট’। অন্যদিকে শুভেন্দু জিতে আসেন অপেক্ষাকৃত কঠিন তমলুক আসন থেকে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে দুবছর বাদেই শুভেন্দুকে দিল্লির রাজনীতি থেকে সরিয়ে বাংলার মন্ত্রিসভায় আনা হয়। কারও কারও মতে সেটাও জাতীয় রাজনীতিতে অভিষেককে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়ারই উদ্দেশ্যে। এরপর প্রতিদিন শুভেন্দু-মমতার দূরত্ব শুধু বেড়েই গিয়েছে। ২০২০ সাল আসতে আসতেই শুভেন্দু বুঝে যান, তৃণমূলে থাকলে কোনওভাবেই অভিষেকের চেয়ে বেশি গুরুত্ব তিনি পাবেন না। সেকারণেই মমতাকে উৎখাতের শপথ নিয়ে তাঁর বিজেপিতে যোগ। সেটা ২০২০ সালের ডিসেম্বর।

    তারপর পাঁচ বছর ধরে বাংলার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বাংলায় হিন্দুত্বের জাগরণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন শুভেন্দু। যার ফল মিলল ছাব্বিশে। তৃণমূলের অন্দরে এখন অভিষেককে নিয়ে কাটাছেড়া হচ্ছে, দলের নেতারা পর পর ‘সেনাপতি’কে গালমন্দ করছেন। এদিকে শুভেন্দুর রাজ্যাভিষেক হচ্ছে সেই ব্রিগেডের মঞ্চে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আজ যে ব্রিগেডে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হলেন, তার আসল লড়াইয়ের শুরুটা হয়েছিল ১৫ বছর আগের সেই ব্রিগেড সমাবেশ থেকেই। এ যেন এক আশ্চর্য সমাপতন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)