‘আখির মে সব কুছ ঠিকই হো যাতা হ্যায়—হ্যাপি এন্ডিং।’ বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের বিখ্যাত এই ডায়লগই ব্যাখ্যা করতে পারে এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুর সরকার গঠনের স্ট্যাটাস। সরকার গঠনে সংখ্যার গোলমেলে হিসাবের দুঃস্বপ্নে দাঁড়ি টেনে এ বার পাকাপাকি ভাবে মসনদের পথে সি জোসেফ বিজয়। পাঁচ দিনের টানাপোড়েন শেষে অবশেষে নিশ্চিত ভাবে TVK-কে সমর্থন জানাল VCK। একইসঙ্গে চিঠি দিয়ে বিজয়ের দলকে সমর্থনের কথা জানাল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML)। এর ফলে TVK জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়াল ১২১। সূত্রের খবর, শনির সন্ধেয় ফের সাড়ে ছ’টা নাগাদ রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আবেদন জানাবেন থালাপতি বিজয়।
তামিলনাড়ুর সরকার গঠন ঘিরে কয়েকদিনের টানটান নাটকের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘জন নয়গন’ তারকা বিজয়-এর দল TVK-কে সমর্থনের চিঠি দিল IUML এবং VCK, যারা প্রত্যেকে দুটি করে আসন জিতেছে। এর সঙ্গেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল বিজয়ের দল।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮ বিধায়কের সমর্থন। নির্বাচনে TVK একাই ১০৮টি আসন জিতেছিল। কিন্তু বিজয় দু’টি কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে, ফলে কার্যকর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। এর পর থেকেই শুরু হয় সমর্থন জোগাড়ের লড়াই। প্রথমে কংগ্রেস, তারপর CPI ও CPM TVK-কে সমর্থন জানায়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য শেষ পর্যন্ত VCK-র সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গত তিনদিন ধরে VCK-র অবস্থান নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্তও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। একসময় খবর ছড়ায় যে, শুধুমাত্র বিজয়কে ক্ষমতার বাইরে রাখার জন্য DMK ও AIADMK-র মধ্যে অঘোষিত সমঝোতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। যদিও পরে দুই দলই সেই জল্পনা খারিজ করে।
সূত্রের খবর, VCK-র ভিতরেও মতভেদ ছিল। একাংশ DMK-র সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে ছিল, আবার অন্য অংশ মনে করছিল জনগণের রায় অনুযায়ী TVK-কে সমর্থন করা উচিত। শেষ পর্যন্ত CPI ও CPM-এর অবস্থান দেখেই VCK সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।
VCK সমর্থন দেওয়ার পর এখন TVK শিবিরের দাবি, তাদের পক্ষে ১২১ জন বিধায়ক রয়েছেন। অর্থাৎ জাদু সংখ্যার থেকে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে বিজয়ের শিবির। বর্তমানে ৫ জন বিধায়ক নিয়ে TVK-র পাশে রয়েছে কংগ্রেস, CPI, CPM-র চার বিধায়কের সঙ্গে জুড়ল VCK-র দুই ও IUML-র দুই বিধায়ক। এর ফলে রাজ্যপালের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেখিয়ে সরকার গঠনের অনুমতি পেলেই বিজয়ের জন্য হবে ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’।