নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠান আয়োজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই অনুষ্ঠানেই রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তিনি। বিজেপিকে প্রধান শত্রু বলে ঘোষণা করে জোরদার লড়াইয়ের ডাক দিলেন। আর সেই লড়াইয়ে তিনি পাশে চাইলেন বামেদের। অতিবাম গোষ্ঠীকেও পাশে আশার ডাক দিলেন। মমতা এ দিন বলেন, ‘যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বেন, যদি বলেন বামেরা- আমার কোনও ইগো নেই। বাম থেকে অতিবাম সবাইকে নিয়ে বাংলায় জোট বাঁধি। দিল্লিতে লড়াই করছি, এখানেও করব।’
বাংলার সব বিজেপি বিরোধী দলকে লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, সব বিজেপি-বিরোধী ছাত্র সংগঠনকে এই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লড়াইয়ে আসার জন্য ডাক দিয়েছেন এনজিও, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকেও। তবে যাঁরা ব্যবসায়ী তাঁরা আসবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ জড়িয়ে থাকে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এ দিন বহু সমস্যার মোকাবিলা করে তিনি রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান করতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সব ডেকোরেটারদের মানা করে দিয়েছে, যাতে কেউ না দেয়। সকালে ২টো চৌকি কিনেছি, মাইক-চেয়ার করেছি। নিজেরা সব ব্যবস্থা করেছি। তৃণমূল কর্মীদের উপর লাগামহীন সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন, পুলিশ পুরো চুপ। ২০১১ সালে কারও উপর কোনও অত্যাচার করতে দেইনি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে বুলেটপ্রুফ গাড়ি পাঠিয়েছিলাম, Z+ সিকিউরিটি দিয়েছিলাম। পট পরিবর্তনের পরে কাউকে না জানিয়ে তাঁর ইন্টারনেট তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মমতা বলেন, ‘তুলে নিক, আমি তো চাই না। কিন্তু আগে জানাতে পারত।’ এ দিন মমতাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘যাঁর ইচ্ছে হবে, নীতিগত ভাবে তাঁরা একত্রিত হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি... যাঁরা যেতে চায় তাঁদের যাওয়ার জন্য অনুমতি দিচ্ছি, যাঁরা থাকতে চান তাঁদের আবেদন জানাচ্ছি।’