সঞ্জয় দে
এ বার পুপাই মন্ত্রী হবে, শুক্রবারই বুঝে গিয়েছিলেন বাড়ির লোকেরা। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি যে ক’জন শপথ নিলেন, তৃতীয় জনই পুপাই। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তিনি। সকলের কাছে অগ্নিমিত্রা পল হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি বাড়ির বড়দের কাছে আদরের পুপাই।
একেবারে অরাজনৈতিক পরিবার অগ্নিমিত্রার। জন্মসূত্রে আসানসোলের বাসিন্দা হলেও দুর্গাপুরের গোপালমাঠে অগ্নিমিত্রার আদি বাড়ি। ২০২১ সালে প্রথম বার আসানসোল দক্ষিণে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার পরে গোপালমাঠের বাড়িতে এসে নিজেদের দুর্গা মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছিলেন অগ্নিমিত্রা।
বাবা অশোক রায় ইসকো কারখানার হাসপাতালের ডাক্তার। মা অপর্ণা রায় গৃহবধূ। দুই বোন। অগ্নিমিত্রা বড়। ছোট বোন থাকেন লন্ডনে। আসানসোল লরেটো কনভেন্টে পড়াশোনা করার পরে যাদবপুরে স্নাতকোত্তর। সেখান থেকে বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ লিবারেল আটর্স ও ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে ফ্যাশন ডিজ়াইনিং নিয়ে পড়েছেন।
শ্রীদেবী, এষা দেওল, ঋতুপর্ণা, স্বস্তিকা-সহ বলিউড ও টলিউডের একাধিক শিল্পীর পোশাক ডিজ়াইন করেছেন অগ্নিমিত্রা। হিন্দি, বাংলা একাধিক সিনেমায় শিল্পীর পোশাক ডিজ়াইন করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে সেই সব ছেড়ে রাজনীতির জগতে পা রাখেন। যোগ দেন বিজেপিতে।
২০২০ সালে রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হন। ২০২১ সালে দল তাঁকে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী করে। সে বছর তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষকে প্রায় ৪ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। তখন থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসেন অগ্নিমিত্রা। এ বার তৃণমূল প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হন অগ্নিমিত্রা। রাজনীতিতে পা রাখা ইস্তক মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন অগ্নিমিত্রা। ধাপে ধাপে এ বার তিনি মন্ত্রী।
পুপাই মন্ত্রী হওয়ায় খুশির হাওয়া দুর্গাপুরের বাড়িতে। গোপালমাঠে রায় পরিবার বললে এক ডাকে সবাই চেনেন। বর্তমানে দুর্গাপুরের বাড়িতে জেঠু মনোরঞ্জন রায় ও জেঠিমা স্বপ্না রায় থাকেন। পরিবারের বাকি সদস্যরা রায় পাড়ায় আলাদা বাড়িতে থাকেন।
জেঠু মনোরঞ্জন রায় বলেন, ‘অগ্নিমিত্রার বাবা অশোক রায় আমার ছোট ভাই। শুক্রবার রাতে অশোক আমাকে ফোন করে কলকাতায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বলেছিল। ৯৩ বছর বয়স হয়েছে। যেতে পারব না বলেছি। তবে আজ সকাল থেকে টিভিতে পুপাইয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখেছি। অরাজনৈতিক পরিবারের এক সদস্য আজ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হতে চলেছে। এর থেকে ভালো খবর আর কী হতে পারে।’
অগ্নিমিত্রা ও তাঁর বোন, দু’জনেই তাঁদের জেঠিমাকে ‘অন্য মা’ বলে ডাকেন। সেই ‘অন্য মা’ স্বপ্না রায় বলেন ‘আমি ওদের আর এক মা। তাই অন্য মা ডাকে ছোট থেকে। আমরা খুবই খুশি। এটা বলে বোঝানো যাবে না।’ তিনি জানান, মন্ত্রী হওয়ার পরে দুর্গাপুরে যাবেন পুপাই ও তাঁর মা, বাবা। তাঁদের বাড়ির দুর্গা মন্দিরে পুজো দেবেন।