• ঋজু-কোহিনুরদের ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল
    আজকাল | ১০ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটে হারতেই তৃণমূলের অন্দরের একাধিক নেতা বেসুরো। কড়া বার্তা দিয়েছিল প্রাক্তন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে পাঁচ মুখপাত্র ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী এবং কার্তিক ঘোষকে শো-কজ করেছিল দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। অভিযুক্ত পাঁচ জনের মধ্যে তিনজনকেই ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার এবং কার্তিক ঘোষ সাসপেন্ড করা হয়েছে। 

    বরখাস্ত প্রসঙ্গে ঋজু ফেসবুকে লিখেছেন, “আমার প্রাণপ্রিয় দল। যে দলকে আমার যৌবনের ১৩টা বছর দিয়েছি। নিরন্তর পরিশ্রম করেছি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। শুধুমাত্র নিজের কাজ ও পারফরম্যান্সের জোরে ধাপে ধাপে উপরে উঠেছি — কারণ আমি কোনও ‘নেপো কিড’ নই। আর আজ আমার প্রিয় দলই আমাকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল! কেন? কারণ আমি সত্যিটা বলেছি।”

    ঋজু দাবি করেছেন, নির্ধারিত সময়েই তিনি দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন। শনিবার সকালেই তিনি নিজের উত্তর জানিয়েছেন। হতাশার সুরে ঋজু লিখেছেন, “সম্ভবত আমার জবাব পড়ার আগেই নোটিশটা টাইপ করা হয়ে গিয়েছিল। ধন্যবাদ, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস! আমি কথা দিচ্ছি — আবার দেখা হবে!”

    অপর বরখাস্ত হওয়া মুখপাত্র কোহিনুর আজকাল ডট ইন-কে বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর এই দল করেছি। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম-পর্ব থেকে ছাত্র রাজনীতি করেছি। তারপরও দল আমাকে রাখছে না। এই দলে অভিষেক ব্যানার্জির মতো অহংকারী, জমিদার নেতার নেতৃত্বে রাজনীতি করার বিশেষ ইচ্ছে যে নেই সেটা তো বোঝাই গিয়েছিল। এবার দল আমাকে অফিসিয়ালি তাড়াল। আমি আর তৃণমূলের সদস্য নই। দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হল। আগামীদিন কী করব ভাবা যাবে। তবে, ধীরে ধীরে তৃণমূলে আর সাসপেন্ড করার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

    বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলে শোচনীয় হারের পরে সমাজমাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে এবং একাধিক বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন মুখপাত্ররা। দলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির পক্ষ থেকে ডেরেক ও’ব্রায়েন ওই পাঁচ মুখপাত্রকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠান। নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

    তৃণমূলের তরফ থেকে জারি করা সাসপেনশন লেটারে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের জবাবদিহিতে সন্তুষ্ট নয় দল। মুখপাত্র এহেন মন্তব্যের ফলে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়েছে দলের সংবিধানের ধারা লঙ্ঘন হয়েছে। এর ফলে অভিযুক্তদের ছয় বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ছয় বছর সময়ে অভিযুক্তরা দলের কোনও পদ বা কোনও কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না। 
  • Link to this news (আজকাল)