মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির 'স্বর্ণযুগ', বাংলা সহ ৯ রাজ্যে প্রথমবার ফুটল পদ্ম
আজ তক | ১০ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসন। ৯ মে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এর ফলে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ হল নবম রাজ্য, যেখানে প্রথমবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন।
এই রাজনৈতিক বিস্তারের সূচনা হয়েছিল ২০১৪ সালে হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্র থেকে। এরপর একে একে অসম (২০১৬), অরুণাচল প্রদেশ (২০১৬), মণিপুর (২০১৭), ত্রিপুরা (২০১৮), ওড়িশা (২০২৪), বিহার (২০২৬) এবং অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে পদ্মফুল ফুটিয়েছে বিজেপি।
হরিয়ানায় ২০১৪ সালে মনোহরলাল খট্টরকে মুখ্যমন্ত্রী করে প্রথমবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়েছিল বিজেপি। একই বছরে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার সঙ্গে জোট গড়ে সরকার গঠন করে এবং দেবেন্দ্র ফড়নবিশ হন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী।
২০১৬ সালে উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে বিজেপি। আসামে জয়ের পর সর্বনন্দ সোনওয়ালকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। এরপর অরুণাচল প্রদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যে প্রেমা খাণ্ডুর নেতৃত্বে বিজেপি প্রথম স্থায়ী সরকার গঠন করে।
২০১৭ সালে মণিপুরে বিজেপি এনপিপি ও এনপিএফ-সহ একাধিক আঞ্চলিক দলের সমর্থনে সরকার গড়ে এবং এন বীরেন সিং মুখ্যমন্ত্রী হন।
২০১৮ সালে বিজেপি ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে। বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে গঠিত হয় রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার।
এরপর ২০২৪ সালে ওড়িশায় নবীন পট্টনায়েকের দীর্ঘ ২৪ বছরের শাসনের ইতি টেনে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। মোহনচরণ মাঝি হন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী।
বিহারে দীর্ঘদিন জোটসঙ্গী হলেও বিজেপির কোনও মুখ্যমন্ত্রী ছিল না। কিন্তু নিতীশ কুমারক পদত্যাগ করার পর বিজেপি সম্রাট চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী করে।
সবশেষে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে বিজেপি এমন এক রাজ্যে সরকার গঠন করল, যাকে দীর্ঘদিন ধরেই দলের কাছে রাজনৈতিকভাবে দুর্ভেদ্য বলে মনে করা হতো।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালার দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির এই সম্প্রসারণ মূলত উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতির ফল। তাঁর কথায়, “মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি ও এনডিএ দেশের নানা প্রান্তে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। যেসব রাজ্যে আগে কখনও বিজেপি সরকার ছিল না, সেখানেও এখন মানুষ বিজেপিকে গ্রহণ করছে।”
একইসঙ্গে বিজেপির আরেক মুখপাত্র তুহিন এ সিনহা এই সময়কে দলের রাজনৈতিক যাত্রার “স্বর্ণযুগ” বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ৩৭০ ধারা বিলোপ, সিএএ কার্যকর করা এবং রামমন্দির নির্মাণের মতো প্রতিশ্রুতি পূরণ করেই বিজেপি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
তুহিন সিনহার কথায়, 'একসময় যে অঞ্চলগুলো বিজেপির কাছে প্রায় অপ্রবেশযোগ্য বলে মনে করা হতো, এখন সেখানেও দল সরকার গঠন করছে। তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও ভবিষ্যতে বিজেপি নিজেদের সংগঠন আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।'