ওড়িশার আকাশজুড়ে আচমকা দেখা মিলল ধোঁয়ার কুণ্ডলি। শুক্রবার এই দৃশ্য দেখে আশ্চর্য হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। সূত্রের খবর, শুধু ওড়িশা নয়, বাংলাদেশ থেকেও দেখা মিলেছিল এই উজ্বল ধোঁয়ার কুণ্ডলী। তারপরই জল্পনা তৈরি হয় তাহলে কি নতুন কোনও ক্ষেপণান্ত্র পরীক্ষা করল ভারত?
শনিবার সব জল্পনার অবসান ঘটায় কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে নিশ্চিত করা হয় – শুক্রবার ওড়িশার চাঁদিপুরের ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে এমআইআরভি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উন্নত অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে ভারত। এমআইআরভি-র পূর্ণরূপ ‘মাল্টিপল ইনডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল’। সহজ ভাষায়, এটি এমন এক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, যেখানে একটি মাত্র মিসাইল একাধিক ‘ওয়ারহেড’ বহন করতে পারে। উড়ানের মাঝপথে সেই ‘ওয়ারহেড’গুলি আলাদা হয়ে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানে। সম্প্রতি ওই পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটিতে একাধিক ‘পেলোড’ ব্যবহার করা হয়, যেগুলিকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর দিকে নিশানা করে পাঠানো হয়েছিল।
গোধূলিবেলায় কোনও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হলে, অত্যন্ত উচ্চতায় তৈরি হওয়া গ্যাসের দীর্ঘ রেখায় সূর্যের শেষ আলো প্রতিফলিত হওয়ার ফলে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফলে অন্ধকার নামতে থাকা আকাশে চোখধাঁধানো ছবি দেখা যায়। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি উৎক্ষেপণের উড়ান চালাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল বঙ্গোপসাগরের উপর প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাজুড়েও।