ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর একের পর এক নেতা দলবিরোধী মন্তব্য করছিলেন। এই ঘটনায় দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে ৫ মুখপাত্রকে শোকজ নোটিস পাঠান ডেরেক ও’ব্রায়েন। দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে না, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে বলা হয় কোহিনূর মজুমদার, ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে। যথাযথ উত্তর না মেলায় ২৪ ঘণ্টা পর কোহিনূর মজুমদার, ঋজু দত্ত ও কার্তিক ঘোষকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের ৬ বছরের জন্য় সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোহিনূর-সহ তিনজনের কাছে সাসপেনশনের নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত নির্বাচনে হারের পর দলবিরোধী মন্তব্য করায় তাঁদের এই খেসারত দিতে হল।
বলে রাখা ভালো, তৃণমূলের ভরাডুবির পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং কোহিনুর মজুমদার ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। অভিষেকের ‘ব্যর্থতা’য় দলে এমন ভরাডুবি বলেই দাবি করা হয়। তারপরই দলের তরফে বিবৃতি জারিও করা হয়। দলের নেতাদের এই সব মন্তব্য একান্ত ব্যক্তিগত বলে বিবৃতিতে জানায় দল। দল এই সব মন্তব্যকে সমর্থন করে না।
অন্যদিকে কালীঘাটে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের প্রশংসা করেন। সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেককে সম্মান প্রদর্শনের কথাও বলেন। তালিকায় ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানেদের মতো বর্ষীয়ান নেতারাও। তারপরই পাঁচ মুখপাত্রকে শোকজের সিদ্ধান্ত নেওয়া নেয় তৃণমূল। আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ উত্তর না পেয়ে তাঁদের মধ্যে তিনজনকে সাসপেন্ড করল দল।