বিধানসভায় কুর্সি বদল! মমতার সাদা চেয়ার চলে গেল বিরোধী দলের ঘরে
প্রতিদিন | ১০ মে ২০২৬
‘চেয়ার’ কি নেহাৎই নিত্যদিনের ব্যবহারের সামগ্রীমাত্র? নাকি শাসকের ক্ষমতার প্রতীক? বৃহত্তর অর্থে নিশ্চিতভাবে দ্বিতীয়টি। কথায় আছে, চেয়ার থাকে, চেয়ারে বসার লোক বদলে যায়। অর্থাৎ শাসকের কুর্সি চিরকালীন, পরিবর্তন হয় শুধু শাসকের। কিন্তু না, সবসময় একথা আবার ধ্রুব সত্যও নয়। ছাব্বিশে বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কুর্সি দখলকারী বদলেছেন, বদলাচ্ছে কুর্সিও! হ্যাঁ, এটাই বাস্তব। বিধানসভায় যে চেয়ার এতদিন ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, সেই চেয়ারে বসতে নারাজ নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! তাই বিধানসভায় কুর্সি বদল।
বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দিষ্ট ঘরে বসতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঠের তৈরি সাদা মখমল গদিওয়ালা একটি চেয়ার ছিল তাঁর জন্য। বিধানসভায় ওই চেয়ারে বসেই এতদিন নিজের ঘরে বৈঠক থেকে যাবতীয় কাজ করেছেন তিনি। ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গড়ে জয়ী হন একদা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব শুভেন্দু অধিকারীকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসান। নতুন সরকারকে স্বাগত জানাতে বিধানসভায় শুরু হয় সাজসজ্জা। মুখ্যমন্ত্রীর নামফলক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মুছে লেখা হয় শুভেন্দু অধিকারীর নাম। বদলে যায় চেয়ারও।
জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর ঘর একই থাকলেও কাঠের তৈরি সাদা মখমল গদিওয়ালা আগেকার চেয়ারটিতে বসতে নারাজ নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য আনা হচ্ছে নতুন চেয়ার। তাই বলে মমতার পছন্দের চেয়ারটি মোটেও বাতিলের খাতায় চলে যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, সেই চেয়ারটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিরোধী দলের ঘরে, যেখানে এবার থেকে বসবেন তৃণমূল, আইএসএফ, কংগ্রেস, সিপিএম বিধায়করা। এর মধ্যে তৃণমূল বিধায়কের সংখ্যাই বেশি। ফলে এক্ষেত্রে চেয়ারের মালিক-সহ চেয়ারই গেল বদলে। ছাব্বিশে নবগঠিত সরকারে এমন ঘটনার সাক্ষী রইল বিধানসভা ভবন।