• ব্রিগেডের মঞ্চে পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন মোদী-শাহ-শুভেন্দুরা, কে এই নবতিপর মাখনলাল সরকার
    আনন্দবাজার | ১০ মে ২০২৬
  • ব্রিগেডে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রইলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গী মাখনলাল সরকার। বিজেপির পূর্ববর্তী সংগঠন জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। আর তাঁর রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন নবতিপর মাখনলাল। শনিবার ব্রিগেডে মাখনলালকে শাল পরিয়ে বরণ করে নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। তার পর মাখনলালকে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে।

    পরে মাখনলালকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন মোদী। সেখানে তিনি লেখেন, “শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মাখনলাল সরকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হল। উনি নিবেদিত জাতীয়তাবাদী মানুষ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন এবং জম্মু ও কাশ্মীরে গ্রেফতার হয়েছিলেন। উনি আমাদের দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের সংগঠনকে প্রসারিত করেছেন এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।”

    মাখনলালকে প্রণাম করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। মাখনলালের পরিচয় বর্ণনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন মাখনলাল। দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য কংগ্রেস আমলে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাঁকে আদালতে নিয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি।

    শমীকের কথায়, “মাখনলাল আদালতে বলেন, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। কেবল একটি গান গেয়েছেন। বিচারক তাঁকে গানটি গেয়ে শোনাতে বলেন। আদালতকক্ষেই মাখনলাল গানটি গেয়ে শোনান। তার পরেই বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন যে, ট্রেনের একটি ফার্স্ট ক্লাস টিকিট দিয়ে মাখনলালকে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে এবং যাতায়াতের জন্য ১০০ টাকা দিতে হবে।”

    একই সঙ্গে শমীক বলেন, “মাখনলাল সরকার হলেন এমন একজন, যিনি ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাশ্মীর যাত্রার সঙ্গী ছিলেন। সেই যাত্রায় আর যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই। তাই আজ যখন শ‍্যামাপ্রসাদের মাটিতে শ‍্যামাপ্রসাদের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হল, তখন মাখনলাল সরকারকে মঞ্চে রাখা হল।”

    ৯৭ বছর বয়সি মাখনলাল১৯৪৫ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত। ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। তিনি শিলিগুড়ির দাগ গ্রামের বাসিন্দা। মাখনলালকে শিলিগুড়ির প্রথম সাংগঠনিক সভাপতি করেছিল বিজেপি। ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁকে পশ্চিম দিনাজপুর (অধুনা ভেঙে উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর), জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিঙের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী করে বিজেপি। ১৯৮১ সালের পর টানা সাত বছর জেলা সভাপতি পদে ছিলেন তিনি।

    শপথগ্রহণের মঞ্চে উপস্থিত থাকার জন্য শুক্রবারই মাখনলালের কাছে বার্তা গিয়েছিল। সেই মতো তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র মাখনলালকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। মাখনলালের স্ত্রী পুতুল সরকার বলেন, “১৩ বছর বয়সে ওর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। দেশভাগের সময় এই দেশে চলে আসা। তখন থেকেই দেখি আরএসএস করে। সঙ্ঘই ছিল ওর কাছে শেষ কথা।” জ্যেষ্ঠপুত্র মানিকলাল সরকারের কথায়, “বাবা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত। দলের উত্থান-পতন হয়েছে। কিন্তু বাবাকে কখনও দলের আদর্শ থেকে বিমুখ হতে দেখিনি। বাবা আজ শান্তি পেলেন। জীবিত অবস্থাতেই বাংলায় দলকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হতে দেখে যেতে পারলেন।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)