দুধে আলতা পেড়ে সাদা ধুতি, গেরুয়া ফতুয়া, গেরুয়া তিলক! শপথের জন্য শুভেন্দুর পোশাক-প্রস্তুতিও নজরকাড়া
আনন্দবাজার | ১০ মে ২০২৬
গেরুয়া ফতুয়া আর সরু দুধে আলতা পাড় ধুতি।কপালে গেরুয়া তিলক। শনিবার ব্রিগেড ময়দানে এ ভাবেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীহিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অনেকে মনে করছেন, পোশাক বাছাইয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের কথা মাথায় রেখেছেনরাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে নিজের বাঙালি সত্তাকেও তুলে ধরতে চেয়েছেনবলে মনে করছেন বিজেপিরই একাংশ।
ভোট প্রচারে হোক বা বিধানসভার অধিবেশন কিংবাবিজেপির কর্মসূচি— শুভেন্দুকে সাদা ফুলহাতাপাঞ্জাবি এবং পাজামাতেই বেশি দেখা গিয়েছে। হলুদ বা গেরুয়া পাঞ্জাবি যে তিনি পরেননি,তা নয়। প্রচারেও তাঁকে ওই গেরুয়া বা কাঁচা হলুদ রঙের পাঞ্জাবি বাফতুয়া পরতে দেখা গিয়েছে। তাঁকে হাফহাতা ফতুয়া পরতে দেখা গিয়েছে আকছার। গত ২৯এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে, নিজেরকেন্দ্র ভবানীপুরে তিনি সেই হাফহাতা ফতুয়া এবং পাজামা পরেই ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। গত৪ মে, ভোটের ফলপ্রকাশের দিনেও তাঁর পরনে ছিল ওই একই পোশাক—হাফহাতা সাদা ফতুয়া এবং পাজামা।
শনিবার ব্রিগেডের মাঠে শপথগ্রহণের দিনেও সেইহাফহাতা ফতুয়া এবং ধুতিতে দেখা গেল শুভেন্দুকে। ফতুয়ার রং গেরুয়া। হাফহাতা কুর্তাবা ফতুয়া সাধারণত আরএসএসের পূর্ণকালীন (হোলটাইমার) বা প্রচারকদের পরতে দেখা যায়।পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজে যে দিন শপথ নিচ্ছেন, সে দিন শুভেন্দু কেন হাফহাতা পরলেন, তা নিয়ে অনেকেঅনেক রকম ব্যাখ্যা খুঁজছেন। তবে অধিকাংশের মতে, শপথের দিনেরপোশাক আরএসএসের প্রতি শুভেন্দুর বার্তা।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-তে প্রথম সারির নেতাদেরমধ্যে আরএসএসের ‘ঘরের ছেলে’ হিসাবে যে ক’জনকে দেখা হয়, শুভেন্দুসে বন্ধনীতে পড়েন না। কিন্তু তা বলে শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রিত্বে আরএসএস কোনওআপত্তিও করেনি বলেই খবর। বরং সঙ্ঘের পূর্ব ভারত ক্ষেত্রের নেতৃত্বই শুভেন্দুকেমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়ার প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছেন বলে কেশব ভবন সূত্রেরখবর। শুভেন্দুও তাই শপথের দিনে নিজের বেশভূষায় সঙ্ঘের সঙ্গে ‘একাত্মতা’র বার্তা দিলেন বলে অনেকে মনে করছেন।সঙ্ঘের প্রচারকদের ওই পরিধানের মধ্যে ‘সাধারণ জীবনযাপন’-এর বার্তা থাকে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার দিন শুভেন্দুও সম্ভবতবোঝাতে চাইলেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কোনও ‘দূরের নক্ষত্রে’ পরিণত হবেন না। ‘সাধারণ’-ই থাকবেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁরনাম ঘোষণা হওয়ার পরেই শুভেন্দু জানিয়ে দিয়েছিলেন ‘চরৈবেতি’মন্ত্রে এগিয়ে যাওয়ার কথা।
গেরুয়া ফতুয়ার সঙ্গেই শুভেন্দু বেছে নিয়েছিলেনদুধে আলতা পাড় সাদা ধুতি। কেউ কেউ মনে করছেন, বাঙালি আবেগকেইতুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। ভোটের আগে প্রচারে তৃণমূল বার বার দাবি করেছিল, বিজেপি বাঙালি-বিরোধী দল। ক্ষমতায় এলে বাঙালির মাছ-ভাত খাওয়া বন্ধ করেদেবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী হবে বাঙালিই— বাংলায় কথা বলা, বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়া। অনেকেমনে করছেন, শপথ নেওয়ার সময় শুভেন্দু শাহের সেই প্রতিশ্রুতিপূরণের কথাই মনে করিয়ে দিলেন।
শুভেন্দুর পাশাপাশি শনিবার ব্রিগেডে শপথগ্রহণকরেছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরামটুডু। দিলীপের পরনে ছিল সেই তথাকথিত সাদা পাঞ্জাবি, তবেফুলহাতা এবং সঙ্গে পাজামা। অগ্নিমিত্রার পরনে ছিল লাল পাড়-সাদা শাড়ি। শাড়িতেফুলের ছাপ। গলায় গেরুয়া-সবুজ উত্তরীয়, যাতে ছিল বিজেপিরপ্রতীক পদ্ম। নিশীথ পরেছিলেন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। গলায় সবুজ সুতোর কাজ করা হলুদরঙের উত্তরীয়। অশোকের পরনে ছিল সাদা ফুলহাতা শার্ট এবং সাদা প্যান্ট। গলায় বিজেপিরপ্রতীক আঁকা গেরুয়া উত্তরীয়। ক্ষুদিরামের পরনে ছিল হালকা গেরুয়া পাঞ্জাবি এবংপাজামা। গলায় গেরুয়া রঙের বিজেপির প্রতীক আঁকা উত্তরীয়।