দলের তিন মুখপাত্রকে ছ’বছরের জন্য নিলম্বিত করে দিল তৃণমূল! শো কজ়ের জবাবে সন্তুষ্ট নয় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি
আনন্দবাজার | ১০ মে ২০২৬
দলের তিন মুখপাত্রকে ছ’বছরের জন্য নিলম্বিত করল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য পাঁচ মুখপাত্রকে শো কজ় করেছিল তৃণমূল। তাঁদের মধ্যে ঋজু দত্ত, কোহিনূর মজুমদার এবং কার্তিক ঘোষ ইতিমধ্যেই জবাবি চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে। তবে তাঁদের জবাব সন্তোষজনক নয় বলেই মনে করছে তৃণমূল।
তৃণমূলের অন্য দুই মুখপাত্র পাপিয়া ঘোষ এবং কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীকেও শো কজ় করা হয়েছিল শুক্রবার। প্রত্যেককেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। তবে পাপিয়া এবং কৃষ্ণেন্দুর ক্ষেত্রে দলের কী অবস্থান, তা এখনও জানা যায়নি। শনিবার তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি কোহিনূরকে নিলম্বিত করার নির্দেশে বলেছে, দল এবং দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মন্তব্যের জেরে কেন কোহিনূরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না, সেই ব্যাখ্যা চেয়ে শো কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ইতিমধ্যে তাঁর জবাবি চিঠি পেয়েছে এবং তা সন্তোষজনক বলে মনে করছে না শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি।
কোহিনূরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁর ওই মন্তব্যগুলিকে দল গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং সেগুলি দলের স্বার্থ, ঐক্য এবং শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণে আগামী ৬ বছরের জন্য দলের সব পদ এবং দায়িত্ব থেকে তাঁকে নিলম্বিত করা হচ্ছে। তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে কোহিনূরকে ওই চিঠি দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তের পরে দলের বিরুদ্ধে ফের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কোহিনূর। তিনি বলেন, “অভিষেকের নেতৃত্বে তৃণমূল করার বিশাল ইচ্ছা ছিল, তেমন তো নয়। আজ হয়তো বুঝলেন না, কিন্তু কোনও না কোনও দিন নেত্রী বুঝবেন, এটা ভুল। কৌরবের মতো তিনি দলকে শেষ করে দিচ্ছেন। এই দল গত তিন বছর ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমাকে সাইডলাইন করার চেষ্টা করেছে।” তৃণমূল থেকে ছ’বছরের জন্য নিলম্বিত করা নিয়ে দলকে ‘বিদ্রুপ’ করতেও ছাড়েননি কোহিনূর। তাঁর মতে, তাঁকে নিলম্বিত করার নির্দেশ প্রত্যাহার করার জন্য যে নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে, সেই নেতৃত্বও ছ’বছর পরে আর থাকবেন না তৃণমূলে।
বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। আর ২০৭টি আসন গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। তৃণমূলের এই নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেই মুখ খুলতে শুরু করেন দলের একাধিক নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক এবং বেশ কয়েক জন মুখপাত্র। সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁদের অনেকেই। এই অবস্থায় তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তিন মুখপাত্রকে নিলম্বিত করল দল থেকে।