রাজ্য প্রশাসনে রদবদলের ইঙ্গিত! একঝাঁক আমলাকে ডেকে পাঠানো হল সংশ্লিষ্ট দফতরে, তার পরেই দায়িত্ববণ্টন?
আনন্দবাজার | ১০ মে ২০২৬
কেউ ছিলেন বিশেষ সচিব, কেউ আবার অতিরিক্ত সচিব। কেউ ছিলেন যুগ্ম সচিব, কেউ ছিলেন আবার ডেপুটি সচিবও। এমন একঝাঁক আমলাকে এ বার কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে ডেকে পাঠানো হল। সূত্রের খবর, সোমবারই ওই দফতরে গিয়ে তাঁদের রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ওই সব আধিকারিককে নতুন দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে। অন্য দিকে, তৃণমূলপন্থী সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েককে বদলি করল নবান্ন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে (স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে) কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে সরিয়ে পাঠানো হল দার্জিলিঙে। সেখানকার বিজনবাড়িতে পুলবাজার বিডিও অফিসে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠাল নবান্ন।
শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারে পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরেও রদবদল যে হতে পারে তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই তাঁর ব্যক্তিগত সচিব এবং উপদেষ্টা হিসাবে যথাক্রমে শান্তনু বালা এবং সুব্রত গুপ্তকে নিযুক্ত করা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই সুব্রতকেই বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআরপর্বে তিনি ছিলেন রোল অবজ়ার্ভারের ভূমিকায়।
তার পরেই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের ইঙ্গিত মিলল। একসঙ্গে ৬২ জন আমলাকে সোমবার কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে ডাকা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই পূর্বতন সরকারের কোনও না কোনও মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। আবার অনেকে ছিলেন বিভিন্ন দফতরের বিশেষ সচিবও।
শনিবার শুভেন্দুর সঙ্গে আরও পাঁচ জন মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্য কারা হবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বিজেপি সূত্রে খবর, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ হবে আগামী সোমবার, ১১ মে। সে দিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে কোন দফতর সামলাবেন। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার লোক ভবনে রাজ্যপাল আরএন রবি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। আগামী শুক্রবার নবান্নে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। নবান্নেই বসতে পারে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক।