ফলপ্রকাশের পর পাঁচ দিন কেটে গিয়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) রাজ্যপালের সঙ্গে চার দফা বৈঠক করেছেন থালাপতি বিজয় (Thalapathy Vijay)। কিন্তু তার পরেও জট কাটছিল না কিছুতেই। অবশেষে মিত্র দলগুলির সঙ্গে টানা দর কষাকষির পরে ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছল ‘বিজয় থ্রিলার’। দু’বছর আগে নিজের দল গঠন করে অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে পা দিয়েছিলেন। এ বার তিনিই হচ্ছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী (Tamil Nadu CM)। আগামী কাল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন থালাপতি বিজয়।
তামিলাগা ভেট্রি কাজ়াগাম সূত্রে খবর, রবিবার সকাল দশটায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে বসবে শপথ গ্রহণের আসর। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিজয়। তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর। তার পরেই শুরু হবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের নতুন সফর। তবে সেই সফর মসৃণ হচ্ছে না মোটেই। রাজ্যপাল তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বুধবারের মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে বিজয়কে।
তামিলনাড়ু বিধানসভার ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান বিজয়। তিনি নিজে জেতেন দু’টি আসনে। কিন্তু সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি। তার জন্য দরকার ছিল আরও ১০টি আসন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেছিলেন, ১০ জন বিধায়কের সমর্থন আদায় করা খুব একটা কঠিন হবে না। বিজয়ের সরকার গঠন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কিন্তু বিষয়টা এত সহজ হয়নি।
বিজয়কে প্রথম সমর্থন দিয়েছিলেন কংগ্রেসের পাঁচ জন বিধায়ক। তার পরেই তড়িঘড়ি রাজ্যপালেন কাছে ছুটে গিয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। লোকভবন থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আরও বিধায়কের সমর্থন চাই। এর পরে শুরু হয় বিভিন্ন দলগুলির সঙ্গে দর কষাকষি। ডিএমকে জোটে থাকা সিপিআই এবং সিপিএম বিজয়কে সমর্থনে রাজি হয়। তাঁদের চার জন বিধায়ক হাত মেলান বিজয়ের সঙ্গে।
বিজয় দু’টি আসনে জিতেছেন। তাঁকে একটি কেন্দ্র ছাড়তে হবে। ফলে টিভিকে-র আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। এর সঙ্গে কংগ্রেসের ৫ এবং বামেদের ৪ বিধায়ক যোগ দেওয়ায় আসন গিয়ে পৌঁছয় ১১৬-য়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তখনও দুই কম। এই সময়ে খবর ছড়ায়, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে নাকি জোট করে সরকার গঠনের কথা ভাবছে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন টিভিকে বিধায়করা। এমনটা ঘটলে গণইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এদিকে টিভিকে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ডিএমকের আর এক শরিক থোল তিরুমাভালাভানের ভিসিকে-কে পাশে টানার। কিন্তু লাভ হয়নি। শেষে এ দিন সন্ধ্যায় তাদের দুই বিধায়ক নিঃশর্ত সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। তাতেই সংখ্যা পৌঁছে যায় একেবারে কাঁটায় কাঁটায় ১১৮-তে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিএমকে জোটের আর এক শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগও বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা করে। তাতেই কিছুটা স্বস্তিদায়ক জায়গায় পৌঁছন বিজয়। তাঁর বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০। এর পরে আর দেরি করেননি বিজয়। রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তার পরেই ঘোষণা করা হয় শপথের দিনক্ষণ।