• ‘কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য...’, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েই নিজের ‘মিশন ও ভিশন’ স্পষ্ট করলেন সুব্রত, শিল্প নিয়ে কী বললেন?
    এই সময় | ১০ মে ২০২৬
  • নির্বাচন পর্বে (West Bengal Assembly Election 2026) পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব সামলেছেন। নির্বাচনের পরে তাঁকে করা হয়েছে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা। শনিবার নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)। সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘কর্মসংস্থান, মহিলাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাই অগ্রাধিকার।’ সঙ্গে শিল্প আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়ে দিলেন। বিগত সরকারের ঋণের বোঝার কথা উল্লেখ করে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশও করলেন কিছুটা।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে সুব্রতর ‘মিশন এবং ভিশন’ খুব স্পষ্ট। এই নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই তাঁর। সুব্রতর কথায়, ‘কর্মসংস্থান, মহিলাদের নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাই অগ্রাধিকার।’ নির্বাচনের আগে থেকেই নিজেদের ‘শিল্পবান্ধব’ হিসেবে তুলে ধরতে কোনও কসুর করেনি বিজেপি। সুব্রত অবশ্য বলছেন, ‘কর্মসংস্থানের সঙ্গেই শিল্প যুক্ত। তবে শিল্প তো আর বললেই হয় না। একটু সময় লাগবে।’ তবে একইসঙ্গে বাংলাকে শিল্পের গড় হিসেবে তুলে ধরার কাজটা এখন থেকেই শুরু করতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    স্বাধীনতা পরবর্তী ছয়, সাতের দশককে বাংলার সোনালি যুগ হিসেবে ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গকে ফের সেই সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন সুব্রত। বলে দিলেন, ‘সেই সময়ে গোটা দেশে বাংলার যে অবস্থান ছিল, কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের সেই জায়গা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’

    তবে চিন্তা পিছু ছাড়ছে না। তার মূল কারণ, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণ। কোনও রাখঢাক না রেখে সুব্রত সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘৮ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি দেনা রয়েছে। ডিএ মামলায় কর্মচারীদের মাইনে দেওয়ার বিষয় রয়েছে।’ তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। সুব্রত বললেন, ‘মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প রয়েছে সরকারের। সেগুলি কী ভাবে এগোবে তার চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

    গত বছরের অক্টোবরে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শুরু হয় গোটা বাংলায়। সেই সময়ে সুব্রতকে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর কাজে সন্তুষ্ট হয় নির্বাচন কমিশন। এর পরে সুব্রতকে রাজ্যের বিধানসভা ভোটের বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রশাসনিক মহলের অনেকের মতে, কর্মজীবনে দক্ষ আইএএস অফিসার ছিলেন তিনি। অবসরের পরেও তাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। এ বার উপদেষ্টার ভূমিকায় তিনি কতটা সফল হতে পারেন, সেটাই দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)