পাঁচ মাসের সন্তানকে খুন করে মৃতদেহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। শুক্রবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের কাছে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দেবজিৎ জানা ওরফে পিকলুকে গ্রেপ্তার করেছে ময়দান থানার পুলিশ। তবে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়নি এখনও। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। কেন অভিযুক্ত একরত্তি সন্তানকে খুন করলেন, জানা যায়নি তা-ও।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, দুপুরের দিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের উত্তর-পূর্ব দিকের শিবমন্দির চত্বরে বসে ছিলেন কয়েক জন। হঠাৎই তাঁদের কাছে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কাজল জানা নামে এক মহিলা। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, গত রবিবার (৩ মে) ব্রিগেডের মাঠে সেই শিশুটিকে গলা টিপে খুন করেন তাঁর স্বামী দেবজিৎ। তার পরে জহরলাল নেহরু রোডের ধারের একটি ডাস্টবিনে দেহ ফেলে দেন তিনি।
কাজল যখন কাঁদতে কাঁদতে নিজের সন্তানের খুন হওয়ার কথা বলছেন, ঠিক তখনই সেখানে হাজির হন দেবজিৎ। কাজলই চিনিয়ে দেন তাঁকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবস্থা বেগতিক বুঝে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন দেবজিৎ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তাঁকে ধরে ফেলেন সবাই। অভিযোগ, তাঁকে শক্ত করে ধরে ফের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে খুনের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। এর পরেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ময়দান থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, পেশায় ভিক্ষুক দেবজিৎ স্ত্রী এবং সন্তানকে নিয়ে ফুটপাথেই থাকতেন। গ্রেপ্তারির পরে তাঁকে জহরলাল নেহরু রোডের ধারের সেই ডাস্টবিনের কাছেও নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও বিশেষ কিছু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন। তাঁর কথাবার্তাও অসংলগ্ন ছিল। শেষে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। তাতেই দেখা যায়, ৩ মে রাতে একটি সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগ ডাস্টবিনে ফেলছেন অভিযুক্ত। তার আগে শিশুটিকে কোলে নিয়ে থাকতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্তর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পরের দিন (৪ মে) ভোরে যে ময়লা তোলার গাড়ি ডাস্টবিন পরিষ্কার করেছিল, সেটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই দিন রাতে অভিযুক্ত যে পোশাক পরেছিলেন, তাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। আপাতত শিশুটির মৃতদেহের খোঁজে তল্লাশি চলছে।