সকালেই কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে শপথ নিয়েছেন বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরে ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। শনিবার রাতে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠল হুগলির তারকেশ্বর। দুই দলের হাতাহাতি থামাতে গিয়ে গুরুতর জখম হলেন তারকেশ্বর থানার ওসি সুব্রত সাধু। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় প্রবল উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকেশ্বর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল-বিজেপি কর্মীরা বচসায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, সন্ধ্যা নাগাদ এলাকার তৃণমূল কর্মী পূজা সাউয়ের বাড়িতে চড়াও হয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। খবর পেয়েই তাঁকে বাঁচাতে দলে দলে তৃণমূল কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। তখনই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি বেঁধে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। অভিযোগ, দুই পক্ষের হাতাহাতি থামাতে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পান তারকেশ্বর থানার ওসি সুব্রত সাধু। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরেই পাঁচ জন বিজেপি কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পদ্মশিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। রাতেই তারকেশ্বর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। বিজেপি কর্মীদের দাবি, ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
তবে তারকেশ্বরের বিজেপি নেতা সুজয় চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলা চালাননি। শুধু জানাতে গিয়েছিলেন, কারও কোনও ভয় নেই। সুজয়ের কথায়, ‘আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে বলছি, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে,কারও কোনও ভয় নেই। কিন্তু তৃণমূল সেটাকেই উল্টো বুঝে আমাদের উপরে হামলা চালিয়েছে।’ একই সঙ্গে তারকেশ্বর থানার ওসি-র বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুজয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের কেউ তাঁর গায়ে হাত দেয়নি। উল্টে তিনি বিজেপির মহিলা কর্মীদের নির্মম ভাবে পিটিয়েছেন। আমরা তাঁর কড়া শাস্তি চাই।’
তৃণমূল কর্মীরাও পুলিশের গায়ে কোনও আঁচড় কাটেনি দাবি করে প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘তৃণমূল কোনও গন্ডগোল করেনি। বিজেপি ছেলেরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে।’