আগামী সপ্তাহের শেষে ইউরোপ যাওয়ার পথে ঝটিকা সফরে যুদ্ধপীড়িত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে এখনও উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধের আঁচ সরাসরিই এসেছে পড়েছে আরব দেশগুলিতে। আবু ধাবি (সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী) লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে মোদীর আমিরশাহি সফর স্বাভাবিক ভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি সূত্রের খবর, বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে এই বদল আনা হয়েছে।
আমিরশাহির সঙ্গে কৌশলগলত সম্পর্ক রয়েছে নয়াদিল্লির। ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে ইরানের সঙ্গেও। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, এই পরিস্থিতিতে মোদী সরকারকে সব দিক মাথায় রেখেই এগোতে হচ্ছে। আমিরশাহি সফরের গুরুত্ব বাণিজ্যিক এবং ভূকৌশলগত কারণে এতটাই যে, এর আগে দফায় দফায় ভারতের কর্তারা আবু ধাবি গিয়েছেন। গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও। ঘটনাচক্রে, তার পরেই মোদীর সফরসূচিতে যুক্ত হয়েছে আমিরশাহি।
দিন দুয়েক আগেই আমিরশাহিতে আবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এতে ৩ জন আহত হন। মন্ত্রকের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পরে এখনও পর্যন্ত ইরানের ছোড়া ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,২৬৩টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, দু’দিন আগেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ তেল শিল্পাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয় এবং তাতে তিন ভারতীয় শ্রমিক আহত হন। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদীও।
সরকারি সূত্রে দাবি, যুদ্ধপীড়ির পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিই মোদী এবং আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জ়ায়েদ নেহানের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু হতে পারে। পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে জ্বালানি সঙ্কটও তৈরি হয়েছে। সে বিষয়েও কথা হতে পারে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। প্রসঙ্গত, আমিরশাহি হয়ে মোদী যাবেন ইউরোপের চার দেশে— নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি।