বাবলু সাঁতরা, চন্দ্রকোণা
সাধের ঝালমুড়ি বাদ গেল না মুখ্যমন্ত্রীর শপথের দিনেও। ভোট প্রচারের পর্ব চুকে গেলেও এখনও নিজের সরব উপস্থিতি নানা ভাবে জানান দিচ্ছে ঝালমুড়ি। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ অনুষ্ঠানে বাংলায় প্রথম বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে সেই অনুষ্ঠান দেখানো হয় ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোণায়। বিজেপির কাঁথি অফিসের সামনেও জায়েন্ট স্ক্রিনে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। চন্দ্রকোণা বিধানসভার মনোহরপুর-১ অঞ্চলের একবালপুরে দেখা গেল অন্য ছবি। শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে কোনও মিষ্টি বিতরণ নয়। বিতরণ করা হয় ঝালমুড়ি। ঝালমুড়ি খেতে খেতেই জায়ান্ট স্ক্রিনে শুভেন্দুর শপথ অনুষ্ঠান দেখেন সবাই।
শনিবার পাঁচ জন মন্ত্রী–সহ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শুভেন্দু। শপথের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও ব্রিগেডে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির নেতা–কর্মীরা। ঝালমুড়ির সগর্ব উপস্থিতি ছিল সেখানেও। খোলা হয়েছিল ঝালমুড়ি ও মিষ্টির অালাদা স্টল। শপথ অনুষ্ঠানে ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোণা থেকেও বিজেপির বহু নেতা–কর্মী গেলেও অনেকেই যেতে পারেননি। তাঁদের জন্যই ব্যবস্থা করা হয়েছিল জায়ান্ট স্ক্রিনের। চন্দ্রকোণার একবালপুরের পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে শপথ অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করে বিজেপি। তার আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।
পঞ্চায়েত অফিস চত্বরেই বসানো হয় ঝালমুড়ির স্টল। ঝালমুড়ির উপকরণ হিসাবে ছিল বিভিন্ন মশলা, আমের আচারের তেল, নারকেল কুচি থেকে লঙ্কা, শসা, পেঁয়াজ। ঠোঙায় করে বিতরণ করা হয় ঝালমুড়ি। দলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মনোহরপুর-১ অঞ্চল কার্যালয়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে শপথ অনুষ্ঠান দেখেন চন্দ্রকোণা ৫ নম্বর মণ্ডল বিজেপির সহ-সভাপতি গৌর ঘোষ ও আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদিক রানু ঘোষ। গৌর ঘোষ বলেন, ‘এটা কোনও দলীয় কর্মসূচি নয়। দলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে এলাকার মানুষও এখানে এসে শপথ অনুষ্ঠান দেখেছেন। যাঁদের ব্রিগেডে যাওয়া হয়নি, তাঁদের জন্যই জায়ান্ট স্ক্রিনে শপথ গ্রহণ দেখানোর ব্যবস্থা হয়েছিল। সঙ্গে সবাইকে ঝালমুড়ি খাওয়ানো হয়েছে।’
জায়ান্ট স্ক্রিনে এদিন শপথ গ্রহণ দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা অরবিন্দ পাল, সুনীল পাড়িয়াল বলেন, ‘শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখতে এসে দেখি সবাইকে ঝালমুড়ি খাওয়ানো হচ্ছে। আমরাও খেলাম, ভালোই লাগল।’