• পলেস্তারা খসে যাওয়া ছোট্ট ঘরেই অস্থায়ী অফিস, ১৯ বছর লড়ে বাংলার মসনদে শুভেন্দু
    এই সময় | ১০ মে ২০২৬
  • সুনন্দ ঘোষ

    পলেস্তারা খসে যাওয়া দোতলার একটা ঘর। সেটাই ছিল অস্থায়ী অফিস শুভেন্দু অধিকারীর। নন্দীগ্রাম তখন জ্বলছে। বেশিরভাগ রাস্তা কাটা, যাতে গাড়ি নিয়ে পুলিশ বা প্রশাসন পৌঁছতে না পারে। মোটরবাইকই ছিল যাতায়াতের একমাত্র সম্বল। কেটে ফেলা পিচ রাস্তা থেকে খুব সাবধানে পাশের জমিতে মোটরবাইক নিয়ে নেমে আবার পিচ রাস্তায় উঠতে হতো। এ ভাবেই সাংবাদিকদের ঘুরে বেড়াতে হতো নন্দীগ্রামের অলি-গলি।

    সেই সব অলি-গলি হাতের তালুর মতো চিনতেন শুভেন্দু। যদিও তাঁকে মোটরবাইকে করে সে ভাবে ঘুরতে দেখা যেত না। সেটা ২০০৭সাল। সে সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারী তেমন চেনা কোনও নাম নয়। বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রাজ্যে। মসনদে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আচমকাই বলা নেই কওয়া নেই, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল নোটিস শিল্পতালুক গড়তে জমি নেওয়া হবে চাষিদের। মাথায় বাজ ভেঙে পড়েছিল তাঁদের। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগান মমতা। তবে সেই আন্দোলনকে ওই স্তরে নিয়ে যাওয়ার পিছনে অবদান ছিল শুভেন্দুরই। সেটা ওই সময়ে নন্দীগ্রামের বাসিন্দারা সকলেই চাক্ষুস করেছিলেন।

    নন্দীগ্রাম থানার পাশে বিডিও অফিসের গলিতে ছিল একটা ছোট্ট ঘর। জানলার গরাদ পর্যন্ত ছিল না। সেখানেই কয়েকটি চেয়ার ও টেবিল পাতা। বেশিরভাগ সময়েই সেই ঘরটাতেই দেখা মিলত শুভেন্দুর। পাশে আবু তাহের, শেখ সুফিয়ানদের মতো নেতারা। আরও অনেক যুবক। ওখানে বসেই তৈরি হতো প্রতিদিনের স্ট্র্যাটেজি। ফোনে নির্দেশ পাঠাতেন বিভিন্ন জায়গায়। সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন এলাকার লোকেরা।

    খেজুরির দিক থেকে তখন ক্রমাগত প্রতিরোধ আসত। সিপিএমের ডেরা ছিল খেজুরি। তমলুক থেকে সেই খেজুরি ছাড়িয়ে তেখালি ব্রিজ টপকে সকলকে প্রতি দিন ঢুকতে হতো নন্দীগ্রামে। খেজুরির সিপিএম নেতারা প্রতিদিন রাস্তা আটকাতেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল-কেন শুধু ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি প্রচার পাচ্ছে? আন্দোলনকারীদের খবর বেশি করে করা হচ্ছে? নন্দীগ্রামের দিক থেকে উল্টো অভিযোগও শুনতে হয়েছে।

    তবে শুভেন্দু নিজে কখনও সে ভাবে সেই অভিযোগ জানাননি। এ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করতেন না। ঠান্ডা মাথায় নিজের মনে ঘুঁটি সাজিয়ে যেতেন। সেই থেকেই তাঁর উত্থান। ১৯ বছর পরে যা এনে দিল প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ।

  • Link to this news (এই সময়)