কেরলে মুখ্যমন্ত্রী কে? দীর্ঘ বৈঠকেও চূড়ান্ত করতে পারল না কংগ্রেস হাইকমান্ড, অব্যাহত অচলাবস্থা
প্রতিদিন | ১০ মে ২০২৬
কেরলে শনিবারও মুখ্যমন্ত্রী বাছাই চূড়ান্ত করতে পারল না কংগ্রেস। বাম মোর্চার ১০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও মুখ্যমন্ত্রী পদের তিন দাবিদার নেতাকে ঘিরে অচলাবস্থা যথারীতি অব্যাহত। হাইকমান্ডের পাঠানো দুই পর্যবেক্ষক মুকুল ওয়াসনিক, অজয় মাকেনরা দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে হাইকম্যান্ডকে রিপোর্ট জমা দিলেও কাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব।
১৪০ সদস্যের কেরল বিধানসভায় কংগ্রেস একা পেয়েছে ৬৩টি আসন। জোট শরিক আইইউএমএলের বিধায়ক ২২ জন। কেরল কংগ্রেস ৮টি আসনে জিতেছে। তিনটি আসনে জয়ী আরএসপি। সব মিলিয়ে ১০২টি আসন ঝুলিতে পুরেছে কংগ্রেস জোট। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, সরকারের নেতা কে হবেন, সে ব্যাপারে শরিকদের মতামতকেও মাথায় রাখতে হচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বকে।
এরই মধ্যে কেরলের দলীয় শীর্ষ নেতাদের দিল্লিতে ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। রাহুল গান্ধী ছাড়াও সেখানে ছিলেন কেরলের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক দীপা দাশমুন্সি, এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপালও। ছিলেন কেরলের কংগ্রেস রাজ্য সভাপতি সানি জোসেফ, বিদায়ী কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা রমেশ চেন্নিথালাও। সেখানে মাকেন, ওয়াসনিকদের জমা দেওয়া রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। খাড়গের বাসভবনের ওই বৈঠকেই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী স্থির হওয়ার কথা।
রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বেণুগোপাল মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন। সদ্য হওয়া নির্বাচনে বাম শাসনের বিরুদ্ধে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সতীশনও আছেন। প্রবীণ নেতা চেন্নিথালাও দৌড়ে আছেন। দলীয় সূত্রের খবর, অধিকাংশ দলীয় বিধায়কই চান, বেণুগোপাল মুখ্যমন্ত্রী হন, কিন্তু দলের কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশ সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষপাতী।
দুই নেতার অনুগামীরাই স্লোগান, পোস্টার যুদ্ধে নেমেছেন। কেরলের লড়াই পৌঁছেছে নয়াদিল্লিতেও। গতকাল গভীর রাতে রাজধানীতে পৌঁছন সতীশন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পড়ুয়া তাঁকে স্বাগত জানান। আবার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদে বেণুগোপালকে চেয়ে পোস্টার পড়েছে খোদ খাড়গের বাসভবনের সামনেই! তার মধ্যেই কেরল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা কে মুরলীধরনের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন, তা স্থির করে ফেলবেন খাড়গেরা।