• বিকল বহু সিসিটিভি, খুনিদের ফুটেজ পাওয়াই চ্যালেঞ্জ! চন্দ্রনাথ খুনের ৭২ ঘণ্টা পরেও অধরা দুষ্কৃতীরা
    প্রতিদিন | ১০ মে ২০২৬
  • রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ৭২ ঘণ্টা পরও অধরা আততায়ীরা। তাদের পালানোর রুটের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহই তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই ফুটেজ জোগাড় করতেই রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। কারণ, দোহারিয়া-মাঠপাড়া সংলগ্ন যে রাস্তা দিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই রুটের একাধিক সিসি ক্যামেরাই দীর্ঘদিন ধরে বিকল।

    বুধবার রাতে দোহারিয়া এলাকায় মাঝরাস্তায় গাড়ি আটকে চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তদন্তকারীদের অনুমান, হামলার পর পেয়ারাবাগান দিকের গলির রাস্তা ব্যবহার করে মোটরবাইকে চেপে এলাকা ছাড়ে আততায়ীরা। সেই রুট ধরেই এখন তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে কার্যকর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ না মেলায় তদন্তে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, বহু জায়গাতেই সিসি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও আবার লাইট পোস্টে লাগানো ক্যামেরার মুখ ঘুরে রয়েছে অন্যদিকে। ফলে আততায়ীদের গতিবিধির স্পষ্ট ছবি হাতে আসছে না। মাঠপাড়া এলাকাতেও একই চিত্র সামনে এসেছে। রাস্তার ধারের দোকানের সিসি ক্যামেরা থেকেও বিশেষ সূত্র মেলেনি। কারণ, ঘটনার সময় রাত হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ দোকানই বন্ধ ছিল। তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, অন্ধকার নামার অপেক্ষাতেই ছিল আততায়ীরা। যাতে দ্রুতগতিতে বাইকে পালানোর সময়
    নম্বর প্লেট বা মুখ স্পষ্টভাবে ক্যামেরায় ধরা না পড়ে।

    এ দিকে তদন্তে নতুন রহস্য তৈরি করেছে একটি লাল রংয়ের গাড়ি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিরাটি মোড় থেকে যশোর রোড ধরে চন্দ্রনাথ রথের স্করপিওর ঠিক পিছনে চলছিল গাড়িটি। দোহারিয়া এলাকায় ঢোকার পরও সেটিকে দেখা যায়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, গাড়িটি শুরু থেকেই চন্দ্রনাথ রথের গাড়িকে অনুসরণ করছিল। সেই ‘লাল গাড়ি’র খোঁজেই এখন জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পুরো হামলাটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। সময় যত এগোচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে চন্দ্রনাথ রথ খুনের রহস্য।
  • Link to this news (প্রতিদিন)