মাওবাদী আতঙ্কের দিন কাটিয়ে মন্ত্রিসভায়, রানিবাঁধকে নতুন আলো দেখালেন ক্ষুদিরাম টুডু
প্রতিদিন | ১০ মে ২০২৬
জঙ্গলমহলে একদা মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম বাঁকুড়ার রানিবাঁধ। সেসব অন্ধকার দিনে বেঁচে থাকাই ছিল কঠিন। কিন্তু অদম্য জেদের কাছে হার মানে সব। সেভাবেই প্রতিকূলতার সঙ্গে যুঝে আজ রাজ্য মন্ত্রিসভায় পৌঁছে গিয়েছেন রানিবাঁধের ভূমিপুত্র ক্ষুদিরাম টুডু। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন তিনি। কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাবেন, তা এখনও ঠিক নেই। তবে আদিবাসী সন্তানের এহেন সাফল্য যেন অন্ধকারে ডুবে থাকা রানিবাঁধকে নতুন আলোর দিশা দেখাচ্ছে। যদিও এর আগে রানিবাঁধের প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি রাজ্যের খাদ্যদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ক্ষুদিরাম টুডু পূর্ণ মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বকীয়তায় নজর কেড়েছিলেন ক্ষুদিরাম। আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে মাতৃভাষা সাঁওতালিতে শপথবাক্য পাঠ করেন, পাশাপাশি পোশাকেও ছিল নিজস্ব সংস্কৃতির ছাপ। জঙ্গলমহলের একসময়ের মাওবাদী অধ্যুষিত দুর্গম এলাকা বাগডুবি গ্রাম থেকে উঠে আসা ক্ষুদিরাম এখন গ্রামবাসীদের কাছে রীতিমতো সেলিব্রিটি। একসময় মাওবাদী আতঙ্কে থমকে থাকা জঙ্গলমহলের সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে তাঁর এই উত্থান বাঁকুড়াবাসীকে উন্নয়নের নতুন আশা দেখাচ্ছে।
ক্ষুদিরাম টুডুর জীবনের পথ অবশ্য সহজ ছিল না মোটেও। জঙ্গলঘেরা প্রত্যন্ত বাগডুবি গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি বারিকুল হাই স্কুল এবং পরে রানিবাঁধ হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। শৈশবেই বাবাকে হারিয়েছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাইয়েরও অকালমৃত্যু হয়। বর্তমানে গ্রামের টিনের চাল ও মাটির বাড়িতে থাকেন তাঁর দাদা পরিমল টুডু এবং বউদি সোমবাড়ি টুডু। পেশায় শিক্ষক ক্ষুদিরাম টুডু কাজের সূত্রে বাইরে থাকলেও নিজের গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও ছিন্ন করেননি। সুযোগ পেলেই ফিরে আসেন নিজের শিকড়ে। তাঁর স্ত্রী পেশায় একজন আশা কর্মী।
শনিবার ক্ষুদিরাম টুডুর মন্ত্রী হওয়ার খবর বাগডুবি পৌঁছতেই উৎসবে মেতে ওঠে গোটা গ্রাম। গ্রামের ছেলে আজ রাজ্যের নীতিনির্ধারকদের একজন হওয়ায় গর্বিত গ্রামবাসীরা। আবেগঘন কণ্ঠে তাঁর দাদা পরিমল টুডু বলেন, “আমরা খুব আনন্দিত। ভাইয়ের কাছে আমার এবং গ্রামবাসীদের একটাই আবেদন, আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট ও পানীয় জলের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির সমাধান যেন করে। শুধু আমাদের এলাকা নয়, সারা রাজ্যের উন্নয়নের কাজও যেন নিষ্ঠার সঙ্গে করে।”
এলাকার নেতার এই সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রানিবাঁধের প্রাক্তন মন্ত্রীরাও। প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি বলেন, ‘‘আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের এলাকা থেকে একজন পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। ওঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। আশা করি, তিনি মানুষের পাশে থেকে এলাকার অসমাপ্ত কাজগুলি সম্পূর্ণ করবেন।” একই সুর শোনা গিয়েছে বাম আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী দেবলীনা হেমব্রমের কথাতেও। তিনি বলেন, ‘‘আমার এলাকার বিধায়ক মন্ত্রী হয়েছেন, এতে আমি খুশি। আশা করি, তিনি এলাকার উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেবেন।”