পাঞ্জাবে দিনভর হানা ইডির, গ্রেপ্তার আপ সরকারের মন্ত্রী
বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল দেখে বিরোধীরা রীতিমতো আতঙ্কিত। এসআইআর করে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া অথবা কারচুপির অভিযোগে সরব হয়েছে আপ, সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা। কিন্তু আগামী বছর যে দুই রাজ্যে ভোট, সেখানে বিজেপি বিরোধী দলগুলি যেন ফের বিজেপির সাফল্যের পদধ্বনি শুনতে পেয়ে শঙ্কিত। শনিবার পাঞ্জাবে আবার এক আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা তথা পাঞ্জাব সরকারের মন্ত্রীর বাড়িতে দিনভর অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সঞ্জীব অরোরা নামের সেই মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এহেন ইডি সক্রিয়তা দেখে এদিন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘রাজ্যে রাজ্যে অবৈধ উপায়ে সরকার দখল করতে উদ্যোগী বিজেপি। বাংলায় সবেমাত্র সরকার দখল করেছে ওরা। এবার পরবর্তী টার্গেট পাঞ্জাব। আর তাই এখন থেকেই পুরানো খেলা শুরু করেছে বিজেপি।’
কয়েক সপ্তাহ আগেই আপের এমপি, এমএলএ, মন্ত্রীদের বাড়িতে ইডি অভিযান চালায়। তারপরই সম্ভবত ভয় পেয়ে কয়েকজন যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। কিন্তু ওই অভিযানের পরও যাঁরা যোগ দেননি বিজেপিতে, তাদের উপর আবার আঘাত নেমে আসছে। সঞ্জীব অরোরা পাঞ্জাবের মন্ত্রী। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, ‘সঞ্জীবকে বিজেপিকে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে ইডি। আর তিনি রাজি না হওয়ায় দু’সপ্তাহের মধ্যে আবার অভিযান। এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। দিল্লি দখলের আগেও বিজেপি এভাবে আমাদের অনেককে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। তারপর দখলপর্ব শেষ হলে আদালত জানিয়ে দেয়, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। পাঞ্জাবে ঠিক এটাই চলছে।’
বাংলার ফলাফলের আতঙ্ক তাড়া করছে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবকেও। এদিন তিনি বলেছেন, ‘আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন। কিন্তু আমার একমাত্র চিন্তা, সেটাও যদি বাংলার ভোটের মতো হয়। বাংলায় এসআইআর হল, ৯১ লক্ষ নাম বাদ গেল এবং বিজেপি অপ্রত্যাশিতভাবে বিপুল ভোটে জয়ী হল— এই একই ফরমুলা রাজ্যে রাজ্যে চালু করবে বিজেপি। আর উত্তরপ্রদেশে সেটাই করার চেষ্টা করবে।’ ২০২২ সালের ভোটেও ভোটার তালিকা সংশোধনী পর্বে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন অখিলেশ। এদিনও সেকথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তখন আমাদের কথা গ্রাহ্য করা হয়নি। আবার নতুন করে এআইআরে উত্তরপ্রদেশে ২ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ। সুতরাং বিজেপির প্ল্যান তৈরি আছে। সুতরাং আমাদের এবার ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপি আগ্রাসী নীতি ঠেকাতে হবে।’ স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, বিরোধীরা যতই বিজেপির বিরুদ্ধে কারচুপি, এসআইআর চক্রান্তের অভিযোগ তুলুক, বিহার-বাংলার বিপুল জয়ের পর তাদের মধ্যেও আতঙ্ক দানা বেঁধেছে!