বিদেশি কোটায় কাটা হচ্ছে টিকিট! পরীক্ষকদের দিয়ে নজরদারির সিদ্ধান্ত রেলের
বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ে বিভিন্ন ‘কোটা’র লাগাতার অপব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম বিদেশি পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত ‘এফটি কোটা’ (ফরেন ট্যুরিস্টস কোটা)। রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের বিরুদ্ধে এনিয়ে অভিযোগ উঠছে। এই বিষয়ে সারা দেশের প্রত্যেকটি রেলওয়ে জোন এবং ডিভিশনে টিটিইদের দিয়ে বিশেষ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রক। জানা যাচ্ছে, বিদেশি পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত কোটা ব্যবহার করে ৩৯টি টিকিট কাটা হয়েছে মধ্য রেলে। ভুয়ো নথিপত্র দাখিল করে সেইসব টিকিট বুকিং করেছেন ১২১ জন রেল যাত্রী। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত রেল যাত্রীদের কাছ থেকে মোট ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯১৬ টাকা জরিমানা বাবদ আদায় করেছে রেলমন্ত্রক। কিন্তু এহেন প্রবণতায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগে রেল বিশেষজ্ঞ মহল।
মধ্য রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র মাসখানেকের ব্যবধানে যাবতীয় টিকিট কাটা হয়েছে এফটি কোটার অপব্যবহার করে। পাশাপাশি, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সংঘমিত্রা এক্সপ্রেসে বিদেশি পর্যটক কোটার অপব্যবহারের মাধ্যমে টিকিট বুকিং করা বেশ কয়েকজন যাত্রীকে অন বোর্ড পাকড়াও করে আরপিএফ। জানা যাচ্ছে, এব্যাপারে আইআরসিটিসিকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে রেল বোর্ড। প্রসঙ্গত, বিদেশি পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত কোটা ব্যবহারকারীরা যাত্রার ৩৬৫ দিন, অর্থাৎ এক বছর আগেই টিকিট বুকিং করতে পারেন। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করার অপশন দেওয়া হয় এই বিশেষ কোটার ব্যবহারকারীদের। ভিনদেশিরা তো বটেই, এনআরআই বাসিন্দারাও এই কোটার সুবিধা পান। এই কোটায় ট্রেনের টিকিট বুকিং করলে কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই স্পেশাল ক্যাটিগরিতে সেকেন্ড এসিতে আটটি বার্থ এবং এগজিকিউটিভ চেয়ার কারে ১০টি আসন সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের অনলাইনে অথবা অফলাইনে বেশ কিছু নথিপত্র দাখিল করতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল নিজের পাসপোর্টের নম্বর এবং ভিসা।
অবৈধ যাত্রীরা কীভাবে এদেশের পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে ফরেন ট্যুরিস্ট কোটায় অনায়াসে টিকিট কেটে ফেলল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভুয়ো ভিসার কাগজই বা কীভাবে জোগাড় হল, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে সর্ষের মধ্যে ভূত রয়েছে কি না, সেই ব্যাপারেও চর্চা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে রেলের ‘ডিজিটাল দালালরাজ’ নিয়েও আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে। এমন আবহে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির রেলভবনে মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেই বৈঠকে রেলমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় যে ক্রমাগত আপগ্রেডেশন হচ্ছে, তাতে যেন যাত্রীদের কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয়। তবে একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় নজরদারির কথাও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী বৈষ্ণব।